কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক ছাত্রদল নেতা। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে এই মামলা করা হয়।
মামলার বাদীর নাম সোলাইমান চৌধুরী শিহাব। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং তাঁর বাড়ি গাজীপুর জেলায়।
সোলাইমানের আইনজীবী ছিলেন কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবী আবদুল মজিদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী হাফিজুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম।
যোগাযোগ করা হলে আইনজীবী আবদুল মজিদ বলেন, ‘দুপুরে আদালতে মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়। মামলাটি আদালত আমলে নিয়েছেন। শুনানি হয়েছে। আদালতের পেশকারের মাধ্যমে পরে জেনেছি, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।’
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একাধিক ভিডিওতে আমির হামজা ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিকৃত করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলায় কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে বিদ্রূপমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা স্পষ্টতই মানহানিকর।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব বক্তব্য মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মান, সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। এর ফলে তাঁদের পরিবারবর্গ, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের জাতীয়তাবাদী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক অপমান ও মানসিক ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে মামলার বাদী সোলাইমান চৌধুরী শিহাব বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আদালতে একটি ফৌজদারি মানহানি মামলা করেছি। আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সম্মান রেখে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’
যোগাযোগ করা হলে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজা বলেন, ‘মামলার আবেদনের বিষয়টি জেনেছি। আমি বিকেলে আদালতেই ছিলাম। যতটুকু জানি, এই মামলার কোনো ভিত্তি নাই। মানহানি হলে ওই পরিবারের কেউ মামলা করতে পারে। তারেক রহমান সাহেব বা তাঁর স্ত্রী বা তাঁর মরহুম ভাইয়ের স্ত্রী মামলা করতে পারেন। তাঁরা তো করেননি। তারপরও আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনগতভাবেই সব কিছু দেখা হবে।’