ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতার ৮০০ মিটার দৌড় ইভেন্টে ‘প্রক্সি প্রতিযোগী’ অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, এই ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জনকারী ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী খেলায় অংশ নেননি। প্রক্সি খেলোয়াড়ের মাধ্যমে জয় পেয়েছেন তিনি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীর যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে বিতর্কের মুখে ওই শিক্ষার্থীর পুরস্কার বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, ৮০০ মিটার দৌড় ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাশরুর রহমান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালিদ মহিবুল্লাহ দ্বিতীয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিফুল ইসলাম তৃতীয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহরিয়ার আহমেদ চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। তবে প্রথম স্থান অর্জনকারী মাশরুরকে ঘিরে প্রক্সি খেলোয়াড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাশরুরের খেলায় অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও তিনি অংশ নেননি। অন্য প্রতিযোগীরা দাবি করেছেন, কর্তৃপক্ষ যাঁকে প্রথম স্থানকারী হিসেবে ঘোষণা করেছে, তাঁকে তাঁরা মাঠে দেখেননি। তাঁর বদলে অন্য কাউকে মাঠে দেখেছেন তাঁরা। প্রক্সি দেওয়া শিক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তাঁরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আসাদুর রহমান এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেইনার সাহেব আলীসহ ওই বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের যোগসাজশে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, প্রক্সি দেওয়া শিক্ষার্থী ইবির ট্রেইনার সাহেব আলীর ছাত্র।
মাশরুর রহমানের ছবি দেখিয়ে সাংবাদিকেরা দ্বিতীয় স্থান অধিকারী খালিদ মহিবুল্লাহর কাছে জানতে চান, তিনি মাশরুরকে খেলায় অংশ নিতে দেখেছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘ছবির এই ব্যক্তি আর খেলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি এক নন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আমি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেখিনি। প্রকৃত বিজয়ীকে দেখলে অবশ্যই চিনতে পারতাম। যদি অন্য কেউ তাঁর হয়ে অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে এই ইভেন্টে প্রথম হওয়ার প্রকৃত দাবিদার আমি। তা ছাড়া এমন প্রতারণা আমরা প্রত্যাশা করি নাই।’
চতুর্থ স্থান অধিকারী শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, ‘ছবিতে যাঁকে দেখানো হয়েছে, তাঁকে আমি ৮০০ মিটার দৌড়ে প্রথম হতে দেখিনি। যিনি প্রথম হয়েছেন, তাঁর শারীরিক গঠন ও ফিটনেস ভিন্ন ছিল, ছবির ব্যক্তির সঙ্গে কোনো মিল পাচ্ছি না।’
অভিযুক্ত মাশরুর রহমান বলেন, ‘৪০০ মিটার দৌড়ে আমার অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। ৮০০ মিটার দৌড়ে ‘‘মাশরুর’’ নামের অন্য একজনের অংশগ্রহণ করার কথা ছিল এবং তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। আমি ওই ইভেন্টে অংশ নিইনি।’ এ সময় অন্য মাশরুরের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে ফোন কেটে দেন। এর পর থেকে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
ইবির ট্রেইনার সাহেব আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি ভিত্তিহীন। আমি একজন বাইরের ট্রেইনার। বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, তা আমি জানি না। ৮০০ মিটার দৌড়ের প্রতিযোগিতার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। যাঁরা এন্ট্রি সম্পন্ন করেছেন, তাঁরাই বিষয়টি ভালোভাবে বলতে পারবেন।’
অন্যদিকে, ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতার ক্যাপ্টেন আসিফ হাসান বলেন, খেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীর নাম মাসরুর এবং তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছেন।
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আসাদুর রহমান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের অজান্তেই ঘটেছে। এই ইভেন্টের পুরস্কার এখনো দেওয়া হয়নি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং তাকে বাদ দিয়ে অন্যদের পুরস্কৃত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে প্রথম পুরস্কার, তৃতীয়জনকে দ্বিতীয় পুরস্কার এবং চতুর্থজনকে তৃতীয় পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বাইরে অন্য কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে একাধিকবার কল দিয়ে পাওয়া যায়নি।