কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গত চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর দাদি বাদী হয়ে রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে রৌমারীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসীকে (৬৫) দায়ী করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী মোবাইল ফোনে ওই স্কুলছাত্রীকে কল দিয়ে বলেন, ‘তোমাকে আমার ভালো লাগে।’ স্কুলছাত্রী বিষয়টি তার নানাকে জানায়। ওই দিন রাত ১০টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও ওই স্কুলছাত্রীকে পাওয়া যায়নি। পরে সাবেক চেয়ারম্যান বঙ্গবাসীর বাড়িতে খোঁজ করতে গেলে তিনি স্কুলছাত্রীর দাদির সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলে তাঁকে তাড়িয়ে দেন।
স্কুলছাত্রীর দাদির ধারণা, তাঁর নাতনি কোথায় আছে, তা ‘বঙ্গবাসী জানেন’।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় আমার মেয়ের শিশুসন্তানকে দেখাশোনার জন্য ওই স্কুলছাত্রীকে গত বছর ঢাকায় যাওয়ার জন্য বলি। কিন্তু ওর দাদা-দাদি রাজি হননি। সম্প্রতি ওই স্কুলছাত্রীকে তার দাদি আর পড়াশোনা করাবে না বলে জানালে সে গত ১২ জুন আমাকে ফোন দেয়। তাকে যাতে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেয়, সে জন্য তার দাদির সঙ্গে আমার কথা বলিয়ে দেয়। এটুকুই ঘটনা। কিন্তু এখন শুনছি সে নিখোঁজ এবং সে জন্য আমাকে দায়ী করা হচ্ছে। আমাকে বলা হচ্ছে, আমি নাকি ওই ছাত্রীকে ঢাকায় পাঠিয়েছি। কিন্তু এর কিছুই আমি জানি না। তার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই।’
বঙ্গবাসী আরও বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে। সামনে নির্বাচন। আমার প্রতিপক্ষ একটি মহল আমার বদনাম করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’
স্কুলছাত্রীর দাদির লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কর্তিমারী বাজারে গিয়ে অভিযুক্ত মজিবুর রহমান বঙ্গবাসীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রৌমারী থানার পুলিশ। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ওসি কাওছার আলী।
ওসি বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে তারপর বিস্তারিত জানানো যাবে।’ এ সময় বঙ্গবাসীর সঙ্গে থানা-পুলিশের সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।