কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে গাছ থেকে চালতা পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে একটি বাড়িতে হামলা, চারটি ঘর ভাঙচুর এবং অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তছনছ করার পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও নলকূপ লুটের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার রামদী ইউনিয়নের হাড়িয়াকান্দা গ্রামে কৃষক জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে তাঁর চাচা আব্দুল ওয়াদুদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল জয়নালের বাড়ির একটি চালতাগাছ থেকে ওয়াদুদের পরিবারের লোকজন চালতা পাড়লে এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর একদল যুবক জয়নালের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
জয়নাল আবেদীনের অভিযোগ, আব্দুল ওয়াদুদের নাতি আসাদুল্লাহ (২৮) ও আফজালের (২৫) নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক রামদা, রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের বাড়িতে ঢোকেন। এরপর চারটি ঘরে এলোপাতাড়ি কোপানো ও ভাঙচুর চালানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের তৈরি ঘরগুলোর বেড়া ধারালো অস্ত্রের কোপে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। কোথাও টিন কেটে বড় ছিদ্র করা হয়েছে, কোথাও ভেঙে ফেলা হয়েছে দরজা-জানালা। ঘরের ভেতরে কাপড়চোপড়, সেলাই মেশিন, কাগজপত্র, চাল-ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় রান্না করা ভাত-তরকারিও। ভাঙচুরে ঘরগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জয়নাল আবেদীনের দাবি, হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে। কেটে ফেলা গাছের মধ্যে পেঁপে, নারকেল, আম, জাম, লিচু, অর্জুনসহ বিভিন্ন ফলদ ও অন্যান্য গাছ রয়েছে। বাড়ির বিভিন্ন স্থানে কাটা গাছ ও ডালপালা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
জয়নালের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৩২) বলেন, ‘হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে মেয়েদের নিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিই। পরে বাড়িতে ফিরে দেখি, ঘরের সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। রান্না করা খাবার, চাল-ডাল, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।’ তাঁর দাবি, হামলার পর ঘরে ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।
জয়নাল আবেদীন আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। এনজিও থেকে উত্তোলন করা দুই লাখ টাকাসহ মোট প্রায় পৌনে ছয় লাখ টাকা এবং দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া বাড়ির নলকূপও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে হাতিম মিয়া জানান, গতকাল জয়নাল তাঁর বাবাকে মারধর করেছিলেন। এ কারণে তাঁর ছেলেরা জয়নালের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তখন হাতিম মিয়া তাঁদের বাধা দিতে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।