পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কের আগড় ঘাটা থেকে কাশিমনগর পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু সংস্কারের কাজ ধীর গতিতে হওয়ায় জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। ২০ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগছে এক ঘণ্টা।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, খুলনা-পাইকগাছা সড়কের হরিঢালী ইউনিয়নের আগড়ঘাটা বাজার, মামুদকাটী বাজার, কপিলমুনি ও কাশিমনগর বাজার পর্যন্ত সংস্কার কাজ চলছে। কিন্তু সংস্কার কাজটি এত ধীর গতিতে চলছে যে বর্ষা মৌসুমে মামুদকাটী বাজার থেকে গোলাবাড়ী হয়ে কপিলমুনি হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কে চলাচলে একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের ওই অংশে সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন খুঁড়ে রাখায় যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
শুধু তাই নয়, প্রায় দিনই ছোটবড় যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের মামুদকাটি বাজার, কপিলমুনি বাজার অংশের সংস্কার কাজ অতি ধীরে করায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ইচ্ছে মাফিক খুঁড়ে রাখা এবড়োখেবড়ো সড়ক পাড়ি দিয়ে সঠিক সময়ে ক্লাসে যোগ দিতে পারছে না তাঁর। রপ্তানিযোগ্য কোটি কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ির পরিবহনগুলো দীর্ঘসময় যানজটের কবলে পড়ে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় মাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পাইকগাছা মৎস্য আড়তদারী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল জব্বার ও সম্পাদক শাহিনুর রহমান বলেন, রাস্তা খারাপ থাকার কারণে ঢাকা থেকে কোনো বড় ব্যবসায়ীরা এখানে মাছ কিনতে আসছে না। কিছু ছোট এক টনে ট্রাক আসলেও খারাপ রাস্তার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে পড়ে বরফ গলে মাছ নষ্ট হচ্ছে। সে কারণে রপ্তানি করতে ব্যর্থ হওয়ায় লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
বাস মালিক সমিতির সভাপতি শেখ হরুনর রশিদ হিরু ও লাইন সম্পাদক শেখ জাহিদুল বলেন, পাইকগাছা থেকে খুলনায় যেতে বাসে সময় লাগত ৩ ঘণ্টা। এখন সময় লাগে সাড়ে ৪ ঘণ্টা। রাস্তার একপাশ খুঁড়ে রাখার কারণে একপাশ দিয়ে বাস চলাচল করে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত সুপার ভাইজার মো. শাহীন আহম্মদ বলেন, জনবহুল রাস্তার কাজ করতে গেলে একটু দেরি হয়। বৃষ্টির কারণে এ জনদুর্ভোগ বেড়েছে। চেষ্টা করছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করব।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।