নরসিংদীর মেয়ে মিলন (১৮)। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর সামান্য আশ্রয় আর দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য গৃহপরিচারিকার কাজ নিয়েছিলেন। পাঁচ বছর ধরে তিনি খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক-সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এএসআই পপি মিত্র ও সঞ্জয় মিত্র দম্পতির গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। তবে কাজে সামান্য ভুল হলেই তাঁর ওপর নেমে আসত ‘পুলিশি নির্যাতন’। অভিযোগ করার কোনো জায়গা ছিল না অসহায়, পরিজনহীন মেয়েটির। অবশেষে স্রষ্টা বোধ হয় মুখ তুলে চাইলেন।
আজ বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ায় মারধর ও গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দিচ্ছিলেন তাঁকে গৃহকর্ত্রী। কান ধরে ওঠবসও করানো হয়। আর এই নারকীয় দৃশ্য ধরা পড়ে এক ফটোসাংবাদিকের ক্যামেরায়।
সোনাডাঙ্গার দ্বিতীয় আবাসিক এলাকায় সোলার পার্কে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করছিলেন। বাইরের দৃশ্য ধারণের সময় ফটোসাংবাদিক আর জি উজ্জ্বলের ক্যামেরায় ধরা পড়ে গৃহকর্মী মিলনের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে আরও সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা জড়ো হন। তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে মিলনকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মিলনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ছ্যাঁকার দাগ দেখা গেছে। মুখমণ্ডলেও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।’
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সংবাদ জেনে কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। অভিযুক্ত দুই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাঁদেরকে থানায় আনা হয়েছে। তবে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার সত্যতা গৃহকর্মী মিলন পুলিশকে জানাননি।’