দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরির অংশ হিসেবে খুলনা জেলায় শীর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করেছে র্যাব-৬। এ তালিকায় প্রাথমিকভাবে স্থান পেয়েছে শীর্ষ ১৫ চাঁদাবাজ এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীসহ ১৮ জন।
র্যাব সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই এই চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হবে। এ জন্য গোয়েন্দা নজরদারিও শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে শুরু হবে অভিযান।
এর আগে নগরে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেলে পুলিশও তালিকা করে। তবে তা নিয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে তালিকা হলেও সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে সাধারণ মানুষের।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একের পর এক গুলির ঘটনা ঘটে খুলনা নগরে। হঠাৎ করে সন্ত্রাসীদের কার্যক্রমও বেড়ে যায়। বেড়ে গেছে মাদকের কারবারও। মাদক ও চাঁদাবাজির কাণ্ডে খুনখারাবির ঘটনা ঘটছে অহরহ। এ ছাড়া এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে ঘটছে সংঘাতের ঘটনা। বেড়ে গেছে চাঁদাবাজিও।
সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে খুলনা নগরীতে একাধিক সন্ত্রাসী সংগঠনের উত্থান, মাদক কারবার নিয়ে দ্বন্দ্ব, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত খুনোখুনি হচ্ছে। এ সময়ে শতাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে গত মার্চে খুলনা নগরের আট থানায় শীর্ষ ২৮ জন চাঁদাবাজ, ৪৭ সন্ত্রাসী ও ৪০০ মাদক কারবারিসহ মোট ৪৭৫ জন অপরাধীর তালিকা তৈরি করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। তালিকায় রাজনৈতিক সংগঠন ছাড়াও সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের মধ্যে খুলনার শীর্ষ আটটি সন্ত্রাসী সংগঠনের নাম তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে। সূত্র জানায়, কয়েকটি ক্যাটাগরিতে এ তালিকা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, শীর্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন, অস্ত্রবাজ, মাদক বিক্রেতা ও সোনা চোরাচালানকারীরা এ তালিকায় রয়েছে।
পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের তথ্যমতে, মহানগরীর ৩০২টি বস্তিতে দুজন করে প্রশিক্ষিত শুটার রয়েছে। এ ছাড়া এসব বস্তিতে গড়ে চারজন করে নারী মাদক বিক্রেতা রয়েছে। যারা খুবই ভয়ানক।
তবে তালিকাভুক্ত এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে গত ঈদুল ফিতরের পর যৌথ অভিযান শুরুর কথা থাকলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আলোচিত কোনো চাঁদাবাজ বা শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়নি।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘খুলনায় অপরাধ দমনে দৃশ্যমান কোনো অভিযান আমরা দেখছি না। শুধু তালিকা করে খুলনার মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করা হচ্ছে।’
এরপর নতুন করে তালিকা করল র্যাব। র্যাব-৬ সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের একটি ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এই তালিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে র্যাব-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে আলাদা করে কোনো ক্যাটাগরি করা হয়নি। তালিকায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা থাকলে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে নিস্তার আহমেদ বলেন, তালিকা অনুযায়ী অভিযান চালানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
তবে র্যাবের এই তালিকা নিয়ে কতটা কাজ হবে, সেটা নিয়েও সংশয়ে রয়েছে নগরবাসী। এ প্রসঙ্গে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, সন্ত্রাসী, অপরাধীরা কোথায় অবস্থান করছে, তা প্রশাসনের জানা আছে। প্রশাসন চাইলেই যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। বরং তালিকা করে অপরাধীদের সতর্ক করা হচ্ছে।