যশোরের মনিরামপুরে হরেন্দ্রনাথ রায় (৫৫) নামে এক স্কুলশিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে বাড়ির পাশে একটি আমগাছের ডালের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনেরা।
হরেন্দ্রনাথ রায় উপজেলার পাঁচকাটিয়া গ্রামের ভবতরন রায়ের ছেলে। তিনি হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
সহকর্মী ও স্বজনেরা জানান, তিন-চার মাস আগে স্ট্রোক করে হরেন্দ্রনাথ রায়ের স্ত্রী অঞ্জনা রায় মারা যান। স্ত্রীকে হারানোর শোক সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর দুই ছেলে রয়েছে।
হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখর চন্দ্র হালদার বলেন, ‘হরেন্দ্রনাথ রায় স্ত্রীকে খুব ভালোবাসতেন। কয়েক মাস আগে তাঁর স্ত্রী মারা যান। এরপর অনেকটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। স্বজনেরা তাঁকে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন।’
প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে হরেন্দ্রনাথের দুই ছেলে এক খাটে বাবাকে নিয়ে ঘুমাত। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাবাকে নিয়ে দুই ছেলে ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর আজ বুধবার ভোরে দুই ছেলেকে ঘুমে রেখে বাড়ির পাশে গোপাল রায়ের পুকুর পাড়ে গিয়ে আমগাছের সঙ্গে গলায় রশি জড়িয়ে তিনি ফাঁস দেন।’
মনিরামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রসেনজিৎ মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া শেষকৃত্য সম্পন্নের জন্য মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।