হোম > সারা দেশ > খুলনা

‘আমাদের কলেজে পড়ার কথা, জুনিয়রদের সঙ্গে স্কুলে লজ্জা লাগে’

মাগুরা প্রতিনিধি

সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের নভেম্বরে মধ্যে এসএসসি এবং ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। আপাতত সেই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে সরকার। মাগুরার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সে অনুযায়ীই প্রস্তুতি চলছে।

তবে দেড় বছরের বেশি সময় করোনার ছুটির মধ্যে তেমন কিছু মনে না হলেও স্কুল খোলার পর অস্বস্তিতে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। কারণ এই ছুটির মধ্যে পরীক্ষা না হওয়ায় নতুনদের সঙ্গে সময়ের ব্যবধান নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ছে পুরাতনেরা। দেখা যাচ্ছে, স্কুলে এখন আলাদা শিক্ষাবর্ষের দুই ব্যাচ একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের এই অস্বস্তির বিষয়টি বুঝতে পারছেন শিক্ষক, অভিভাবকেরাও।

চলতি ২০২১ সালের শুরুর দিকেই যাদের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তারা এখনো স্কুলেই আছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই শিক্ষার্থীদের এখন কলেজে যাওয়ার কথা। 

কলেজগুলোতে এই শিক্ষাবর্ষ অনুসারে প্রথম বর্ষের চার মাস এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। এর ফলে স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলেও জানান শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী হুমায়রা জানায় তার অস্বস্তির কথা। হুমায়রা বলে, ‘স্কুলে আসছি কিন্তু ভালো লাগছে না। বছরের এই সময় আমাদের কলেজে পড়ার কথা। এখন জুনিয়রদের সঙ্গে স্কুলে লজ্জা লাগছে। বলতে পারেন বিব্রতকর একটা পরিস্থিতি।’

হুমায়রার সঙ্গে সহমত পোষণ করে তারই সহপাঠী তিন্নি বলে, ‘এক বই কতবার পড়া যায়! এখন আবার স্কুলে নিয়মিত আসতে হচ্ছে। যেখানে নতুন করে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করার কথা, সেখানে আমরা স্কুলেই পড়ে আছি। এটা খুবই মানসিক যন্ত্রণার বিষয়।’ 

ফাহমিদা খাতুন নামে আরেক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের কলেজে যাওয়ার কথা এখন থেকে চার মাস আগে। মানসিক কষ্ট এটাই যে, আমরা আর বড় হচ্ছি না। আমাদের কলেজে যেতে হয়তো আরও মাস ছয়েক অপেক্ষা করতে হবে। তখন আবার ২০২২ সালের এসএসসি ব্যাচ কলেজে আমাদের সঙ্গে পড়বে। বিষয়টি ভারসাম্যহীন।’

ফাহমিদা আরও বলে, ‘আমার বোন কলেজে এখন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ও যখন কলেজে যায় তখন আমার স্কুলের পোশাক পরে আসতে হচ্ছে। অথচ আমরা দুই বোন এক বছরের ছোট-বড়। শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে আমাদের মাঝে প্রায় দুই বছরের ব্যবধান তৈরি করে দিয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিব্রতকর পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় শিক্ষকেরাও। মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহাদত হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষার্থীদের বয়স অনুসারে ক্লাসে পড়াশোনা নিয়ে কিছুটা ব্যবধান তৈরি হয়েছে। অভিভাবকেরাও সন্তানদের এ অবস্থা নিয়ে চিন্তিত। বড়-ছোটর একটা বিষয় তো থাকেই। এর কোনো সমাধান দেখছি না।’

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোর্য়াদ্দার বলেন, ‘দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার এসএসসি ব্যাচ নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবু আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। বর্তমানে সব স্কুলেই দুটি এসএসসি ব্যাচ। একটি ২০২১ ও আরেকটি ২০২২ সালের।’

তিনি বলেন, ‘প্রাণঘাতী করোনা থেকে বেঁচে থাকাটাই আসলে এখন আমাদের প্রধান কাজ হয়ে গেছে। সেখানে শিক্ষা জীবনে একটু পরিবর্তন মেনে নিতেই হবে।’

খুলনায় যুবককে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তের গুলি

খুলনায় রমজানে গরুর গোশত ৭৪০, খাসি ১১০০ টাকা

খুলনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

খুলনায় চেগা সোহেল গুলিবিদ্ধ

মন্ত্রিসভায় খুলনার কেউ নেই, হতাশ বিএনপিও

সুন্দরবন উপকূলে বনদস্যুদের হানা, ২০ জেলে অপহরণ

খুলনার ১৫ স্থানে ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

খুলনায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

খুলনা অঞ্চল: বিএনপির বিভেদে জামায়াতের উত্থান

খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা