শরতের আগমনে পাহাড়ে চেঙ্গী নদীর তীর ও মেঠোপথ ধরে ফুটে উঠেছে শুভ্র কাশফুল। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা উপজেলা সড়কের ‘৮ মাইল’ এলাকায় রাস্তার দুই পাশে ফোটা এসব কাশফুল দেখতে আসা ভ্রমণপিপাসু ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতি যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়।
ভ্যাপসা গরমের পর শরতের মিষ্টি বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের এমন শুভ্র রূপ দেখতে খাগড়াছড়ির সদরের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ছুটে আসছে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাদ্র-আশ্বিনের নীল আকাশে মেঘের ভেলার সঙ্গে সড়কের পাশে ফোটা কাশফুলের মেলবন্ধন মনোমুগ্ধকর এক আবহ তৈরি করেছে। বিকেলে জমে উঠছে পর্যটকদের ভিড়। কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে গল্পে মেতেছেন, কেউবা কাশফুল হাতে ক্যামেরাবন্দী করছেন স্মৃতি।
সাধারণত পাহাড়ের ঢালে একসঙ্গে এত বিস্তৃত কাশবন চোখে পড়ে না বলে জানাচ্ছেন ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।
খাগড়াছড়ি সদর থেকে আসা পপি চৌধুরী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘শরতের বিকেলে কাশফুল দেখার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সাদা মেঘগুলো আকাশে যেমন ভেসে বেড়ায়, তেমনই পৃথিবীর বুকে এই কাশফুলগুলো বাতাসে দোল খায়। আমরা তো বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেও এই অপার সৌন্দর্য দেখতে ছুটে এসেছি।’
একই সঙ্গে ঘুরে দেখতে আসা চার বান্ধবী ইতি, হেনা, সমাপ্তি ও পপি জানান, পাহাড়ে এমন দৃষ্টিনন্দন কাশবনের পরিবেশ সচরাচর দেখা যায় না বলে তাঁরা এসে ছবি তুলছেন এবং পরিবেশ উপভোগ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শরৎ এলেই খাগড়াছড়ির পাহাড়ি পরিবেশ নতুন রূপ ধারণ করে, যা দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই এখানে আসেন।
নয় মাইল ত্রিপুরাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপু ত্রিপুরা বলেন, ওপরে নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘের ভেলা আর নিচে দিগন্তজোড়া কাশফুল—এমন দৃশ্য যে কারও মন কেড়ে নেবে। বিশেষ করে, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনগুলোতে এখানে শত শত মানুষের মেলা বসে।
পাহাড়ের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা।
হিল অর্কিড সোসাইটি খাগড়াছড়ির প্রতিষ্ঠাতা সাথোয়াই মারমা বলেন, ‘কাশফুলের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিবছরই মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। কাশবনসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থানগুলোতে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে এবং গাছপালা ও পরিবেশের ক্ষতি না করে সবাইকে সচেতনভাবে সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে।’