হোম > সারা দেশ > খাগড়াছড়ি

কাঁকরোল খেতে দুর্বৃত্তের হানা, হাসেমের ৮ লাখ টাকার স্বপ্ন চুরমার

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 

প্রায় ৫০ শতক ফলন্ত কাঁকরোলগাছ গোড়া থেকে কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাজারে সবজির টান, খেতজুড়ে ফলন্ত কাঁকরোল। তাই বৃষ্টি-বাদলের ক্ষতি পুষিয়ে এবার ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন প্রান্তিক কৃষক আবুল হাসেম। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। শুক্রবার সকালে খেতে গিয়ে দেখেন, তাঁর প্রায় ৫০ শতক ফলন্ত কাঁকরোলগাছ গোড়া থেকে কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায় কয়েক মাসের শ্রম, বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য আয়।

ঘটনাটি ঘটেছে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার চেম্প্রুপাড়া এলাকার আমতলী পাড়ায়। কৃষক হাসেমের দাবি, প্রতিহিংসার জেরে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মানসিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

কৃষক আবুল হাসেম বলেন, ‘আমি একজন প্রান্তিক বর্গাচাষি। এবার ৪৬ শতক জমিতে কাঁকরোল চাষ করেছি। প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। খেতটি ফুল-ফলে ভরে উঠেছিল। কিন্তু গত জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহের টানা ভারী বৃষ্টিতে খেত ও ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর গাছ ও ফল টিকিয়ে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। গত দুই সপ্তাহে প্রায় এক লাখ টাকার কাঁকরোল বিক্রি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলেও ৩০০ কেজি কাঁকরোল তুলেছি। শুক্রবার সকালে সাড়ে ১৮ হাজার টাকায় তা বিক্রি করে খেতে ফুলের পরাগায়ন করতে যাই। গিয়ে দেখি, কে বা কারা আমার ফলন্ত কাঁকরোলগাছগুলো গোড়া থেকে কেটে দিয়েছে।’

হাসেম আরও বলেন, ‘সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছিল। পরে রোদ ওঠার পর কাটা গাছগুলো মরতে শুরু করে। এ অবস্থায়ও ৩০০ কেজির বেশি অপরিপক্ব কাঁকরোল ছিঁড়ে নিতে হয়েছে। বৃষ্টি শেষে বাজারে সবজির সংকট থাকায় এবার ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করেছিলাম। সেই টাকা দিয়ে আগামী কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েকটি গরু মোটাতাজা করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রতিবেশীদের কেউ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আমার খেত কেটে দিয়েছে বলে ধারণা করছি। আমি না মরলেও মানসিক ও আর্থিকভাবে আমার স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আদম আলী বলেন, ‘মানিকছড়ির অধিকাংশ মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস খেত-খামার। একজন কৃষক দিনের পর দিন ঘাম ঝরিয়ে যে ফসল ফলান, তা এভাবে কেটে নষ্ট করে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন নিষ্ঠুর কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান বলেন, ‘ফল ও সবজি গাছের সঙ্গেও মানুষের শত্রুতা হতে পারে—এটি অত্যন্ত অমানবিক ও নিন্দনীয়। মানিকছড়ির মৌসুমি সবজি সমতলের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। বৃষ্টি-পরবর্তী সময়ে বাজারে যখন সবজির সংকট, তখন কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত খেতে আবারও সবজি উৎপাদনে কঠোর পরিশ্রম করছেন। এমন সময়ে একটি ফলন্ত খেত কেটে দেওয়ার খবর সত্যিই দুঃখজনক।’

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবুল হাসেমের পক্ষ থেকে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

মাদকবিরোধী বার্তা নিয়ে রামগড়ে ম্যারাথন, অংশ নিলেন ৩০০ জনের বেশি

গুগল ম্যাপের নির্দেশনায় ভুল পথে পর্যটকবাহী বাস

মানিকছড়িতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩৭ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

রামগড়ে গুচ্ছগ্রামবাসীর রেকর্ডভুক্ত জমি দখলের অভিযোগ, নিরাপত্তায় সেনা ক্যাম্পের দাবি

মানিকছড়িতে বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন, সভাপতি হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন

বিজিবির ধাওয়ায় পালাল চোরাকারবারি, বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

হালদায় কারেন্ট জালে মাছ শিকার, ১০০ মিটার জাল জব্দ

খাগড়াছড়িতে অস্ত্রসহ ভারতীয় রুপি উদ্ধার, চোরাকারবারিদের সঙ্গে গুলিবিনিময়

বন্যার কারণে খাগড়াছড়িতে ৩ মাস ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত

খাগড়াছড়িতে অসহায়-অসচ্ছলদের মাঝে সেনাবাহিনীর সহায়তা