হোম > সারা দেশ > খাগড়াছড়ি

রামগড়ে এসএসসির ফল হতাশাজনক, মাধ্যমিক শিক্ষায় নানা সংকট

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি  

রামগড় মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভবন। ছবি: আজকের পত্রিকা

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। এমন বিপর্যয়ের জন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষা কার্যালয়ে জনবল, শিক্ষকদের আবাসনসহ নানামুখী সংকটকে দায়ী মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, উপজেলায় পাঁচটি বিদ্যালয় এবং একটি মাদ্রাসায় ৫১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৯ জন পাস করেছে। পাসের হার প্রায় ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে রামগড় সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ১২১ জনে ৬৩ জন পাস করেছে, পাসের হার ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ। রামগড় বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ২২৮ জনে ৭৫ জন, পাসের হার ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। নাকাপা উচ্চবিদ্যালয়ে ৪১ জনে পাস করেছে ১০ জন, পাসের হার ২৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সবচেয়ে খারাপ ফল দেখা গেছে চৌধুরীপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখানে ৭৩ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৯ জন, পাসের হার ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা। সেখানে ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ জন পাস করেছে, পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০৭টি শিক্ষকপদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৪৫টি পদ। রামগড় সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ২৭টির মধ্যে ১৭টি, রামগড় বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ২০টিতে ৬টি, নাকাপা উচ্চবিদ্যালয়ে ১৭টিতে ৬টি, চৌধুরীপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে ১১টিতে ৪টি এবং বলিপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে ১১টির মধ্যে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে। রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ২১টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৯টি পদ। বিভাগভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় কোথাও খণ্ডকালীন, কোথাও ধার করা শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের চিত্র আরও সংকটপূর্ণ। কার্যালয়ের সাতটি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। একজন অফিস সহায়ক দিয়েই চলছে শিক্ষা কার্যক্রমের দাপ্তরিক কাজ।

ওয়ালী উল্লাহ নামের এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন কোনো বিষয়ে নিয়মিত শিক্ষকই পাচ্ছে না, তখন পরীক্ষার ফল খারাপে শুধু শিক্ষার্থীকে দায়ী করা অন্যায়। বিদ্যালয়ে ক্লাস ঠিকমতো হচ্ছে কি না, শিক্ষকের পদ শূন্য কেন পড়ে আছে, শূন্য পদ পূরণে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তরও খুঁজতে হবে।

শ্যামল রুদ্র নামের আরেক অভিভাবক বলেন, সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে একজন অভিভাবকের প্রত্যাশা থাকে, শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেবেন এবং শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবেন। কিন্তু বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট থাকলে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না। পরীক্ষার ফল খারাপে শুধু শিক্ষার্থীদের মেধা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশও মূল্যায়ন করা দরকার।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র শিকদার বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষকদের আবাসন সমস্যা চরম। শিক্ষকেরা এখানে থাকতে চান না। শিক্ষকসংকটের বিষয়টি জেলা সংসদ সদস্যদের ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে।’

মহালছড়িকে ১১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা খাগড়াছড়ির

মাদকবিরোধী ম্যারাথনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন হাজী নুরুল হক

কাঁকরোল খেতে দুর্বৃত্তের হানা, হাসেমের ৮ লাখ টাকার স্বপ্ন চুরমার

মাদকবিরোধী বার্তা নিয়ে রামগড়ে ম্যারাথন, অংশ নিলেন ৩০০ জনের বেশি

গুগল ম্যাপের নির্দেশনায় ভুল পথে পর্যটকবাহী বাস

মানিকছড়িতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩৭ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

রামগড়ে গুচ্ছগ্রামবাসীর রেকর্ডভুক্ত জমি দখলের অভিযোগ, নিরাপত্তায় সেনা ক্যাম্পের দাবি

মানিকছড়িতে বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন, সভাপতি হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন

বিজিবির ধাওয়ায় পালাল চোরাকারবারি, বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

হালদায় কারেন্ট জালে মাছ শিকার, ১০০ মিটার জাল জব্দ