জয়পুরহাট পৌর শহরে পারিবারিক কলহ ও কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নিজের ছেলে নাইম ইসলাম ইয়ামিনকে (২০) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবা লুৎফর রহমান পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের সৎমা বানু খাতুনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে পুলিশ শহরের সাগরপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ইয়ামিনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাইম ইসলাম ইয়ামিনের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলায়। তিনি জয়পুরহাট শহরের সাগরপাড়ায় বাবা ও সৎমায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সম্প্রতি তিনি কিস্তিতে একটি স্মার্টফোন কিনেছিলেন। গত ২৯ জুলাই ওই ফোনের কিস্তির টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে বাবার সঙ্গে তাঁর তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাবা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় লুৎফর রহমান ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান।
শুক্রবার দুপুরে দীর্ঘ সময় ঘর বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ ও কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে বাবাই ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের সৎমাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।