জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মোছা. খালেদা (৩৫) নামের এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার এলতা উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে খালেদার স্বামী আব্দুল বারী ওরফে সাইদুর (৫৫) পলাতক রয়েছেন।
নিহত খালেদা এলতা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের মেয়ে। অভিযুক্ত সাইদুর কালাই উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত মভেজ আলীর ছেলে।
এলাকাবাসী, মৃতের স্বজন ও পুলিশ জানায়, প্রায় দুই যুগ আগে সাইদুরের সঙ্গে খালেদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর এলতা উত্তরপাড়া গ্রামে স্ত্রীর বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন সাইদুর। খালেদা সাইদুরের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁদের সংসারে এক সন্তান রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, গতকাল দুপুরে খালেদা মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন—এমন সন্দেহে স্বামী সাইদুর তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর সোনার গয়না কেড়ে নেন। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিটমাট করা হয়। কিন্তু গভীর রাতে আবারও এই দম্পতির মধ্যে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে স্ত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে সাইদুর পালিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
নিহত নারীর বড় বোন আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমার বোনকে বরাবরই নির্যাতন করত ভগ্নিপতি। বিভিন্ন সময় টাকাপয়সা দাবি করত। বিদেশে কাজ করতে গিয়ে যে টাকা পেয়েছিল, সেখান থেকেও টাকা দিয়েছে। দেশে ফেরার পরও টাকার জন্য বোনকে চাপ দিত। শেষ পর্যন্ত তাকে মেরে ফেলল।’
কালাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দ্বীপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে মৃত ব্যক্তির গলায় একটি ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ওসি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহজনিত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন। এ বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।