হোম > সারা দেশ > জয়পুরহাট

আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে: ১ কেজির বদলে ১৯৫ গ্রাম মাছ সরবরাহ

নিয়াজ মোরশেদ, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)

লেজ, মাথা ও নাড়িভুড়ি বাদে ১৯৫ গ্রাম মাছ পাওয়া যায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে রোগীদের খাবার রান্নার জন্য প্রতিটি রুই, কাতল মাছ লেজ, মাথা, নাড়িভুঁড়ি কাটার পর এক কেজি ওজন হওয়ার কথা থাকলেও মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়িসহ ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের মাছ সরবরাহ করছেন ঠিকাদার। মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়ি বাদ দিলে এ মাছের ওজন দাঁড়াচ্ছে ১৯৫ গ্রাম বা তার চেয়ে কম।

আজ শনিবার সকালে সরেজমিনে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের খাবার রান্নার প্রস্তুতি চলছে। সেখানে একটি পাত্রে ছোট আকারের ১২ থেকে ১৪ কেজির মতো মাছ রাখা হয়েছে। রান্নাঘরের পাশে থাকা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে মাছগুলো একে একে ওজন করে দেখা যায়, প্রতিটি মাছের ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের মধ্যে। মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়ি বাদ দিলে, দেখা যায় ১৪০-১৯৫ গ্রাম সলিড অংশ রয়েছে।

জানতে চাইলে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। আপনারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাবার পরিবেশনের বিধি অনুসারে নির্ধারিত ওজনের মাছ না পাওয়া গেলে কম ওজনের মাছ দিয়ে দায় সারার কোনো সুযোগ নেই। বরং বিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত পরিমাণের মাছ পাওয়া না গেলে মেনু পরিবর্তন করে বিকল্প খাবার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

মুক্তা পারভীন নামে এক রোগী বলেন, ‘আমার মেয়েকে নিয়ে আমি দুই দিন থেকে ভর্তি রয়েছি। রোগীদের যে খাবার সরবরাহ করা হয়, তা খুবই নিম্নমানের। আবার মাছের টুকরাগুলোও খুব ছোট ছোট। আমরা গরিব মানুষ, এসব অভিযোগ আমরা দেব কোথায়।’

স্থানীয় বাসিন্দা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে দীর্ঘদিন থেকে ভর্তি রোগীদের মাঝে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করে হচ্ছে। হাসপাতালের কর্মকর্তাকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।’ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব বলেন, ‘মাছের ওজনে কম থাকার বিষয়টি আমার কানে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজে রান্নাঘরে গিয়ে ওজন কমের সত্যতা পাই। পরে ওই মাছগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। মেনু পরিবর্তন করে মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ফোন দিয়ে মেনু পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’