জয়পুরহাটের কালাইয়ে স্ত্রীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মেহেদী হাসান শাপলার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট দিন পর গতকাল শুক্রবার রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মাছুদা বেগম (২৭)।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বছির মন্ডল বাদী হয়ে কালাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর গতকাল শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আজ শনিবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান শাপলা কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ প্রামাণিকের ছেলে। নিহত মাছুদা বেগম ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া খাঁপাড়ার মৃত দিলবর মন্ডলের মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিপেন্দ্র নাথ সিংহ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে মেহেদী হাসান ও মাছুদা বেগমের বিয়ে হয়। তাঁদের ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায়ে তাঁদের বিচ্ছেদও হয়। পরে বিচ্ছেদের প্রায় এক বছর পর তাঁরা আবারও বিয়ে করেন।
এজাহারে বলা হয়, ১৪ আগস্ট দুপুরে তাঁদের মেয়ে বাড়িতে ছিল না। তখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এ সময় যৌতুকের দাবিতে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের মধ্যে উচ্চ শব্দে গান ছাড়েন মেহেদী হাসান। পরে প্লায়ার্স দিয়ে তাঁর মুখে আঘাত করলে দুটি দাঁত ভেঙে যায়। এরপর কাস্তে গরম করে হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।
পরে প্রতিবেশীরা তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই দিনই বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল শুক্রবার রাতে মাছুদা বেগমের মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী বছির মন্ডল বলেন, ‘আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
কালাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিপেন্দ্র নাথ সিংহ বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাছুদা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর গতকাল শুক্রবার রাতেই নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।