ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলার একমাত্র আসামি শান্তনা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন এ রায় দেন। শান্তনা খাতুন শহরের পবহাটি গ্রামের আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ওই দিন রাতে প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘরের খাটের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার তদন্ত শেষে ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ওই শিশুর বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘রায়ে আমরা খুশি না। আমার সন্তানের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই। যেহেতু সঠিক বিচার পাইনি, আমি উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’