ঝিনাইদহ শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল কলেজের দাবি জানিয়ে এলেও এর বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান ঘোষণা করেছেন আইনমন্ত্রী। ফলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহরে একটি আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ঝিনাইদহ জেলার উন্নয়ন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখব, তবে মেডিকেল কলেজ নয়।’ এই বক্তব্যের পর আজ বেলা ১১টার দিকে শহরের পায়রা চত্বরে ‘আমরা ঝিনাইদহবাসী’র ব্যানারে মানববন্ধন করে ঝিনাইদহ শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, ঝিনাইদহ শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সদর হাসপাতালের বিদ্যমান জায়গাতেই মেডিকেল কলেজ করা সম্ভব। এ ছাড়াও আরও উপযুক্ত স্থান রয়েছে।
মেডিকেল কলেজের স্থান নির্বাচনের জন্য সম্প্রতি আইনমন্ত্রী নিজ উপজেলা শৈলকুপায় সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে যাওয়ার পর জেলায় আলোচনা শুরু হয়। সচেতন মহল ও আন্দোলনকারীদের দাবি, জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে ঝিনাইদহ সদর অবস্থিত হওয়ায় এখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ সমানভাবে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার সুবিধা পাবে।
আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, জেলার এক প্রান্তে অবস্থিত শৈলকুপায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে অধিকাংশ মানুষ ভৌগোলিকভাবে বঞ্চিত হবে।
মানববন্ধনে আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, ঝিনাইদহের মন্ত্রী গোপালগঞ্জের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করছেন। সরকারদলীয় এমপি হিসেবে আপনারাই তো বলেন সবার আগে বাংলাদেশ। তাহলে বাংলাদেশকে প্রাধান্য দেওয়ার আগে শৈলকুপাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কেন?’
আলী আজম আরও বলেন, ‘ঝিনাইদহে একজন মন্ত্রী হওয়ায় আমরা আশাবাদী ছিলাম জেলার উন্নয়ন হবে। কিন্তু তিনি শুধু শৈলকুপার মন্ত্রী হয়ে পড়বেন, এটা আমরা ভাবিনি। তিনি ঝিনাইদহের গৌরব, দেশেরও গৌরব। কিন্তু মেডিকেল কলেজ ইস্যুতে তিনি ছোট মনের পরিচয় দিয়েছেন।’
সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের কথাও উল্লেখ করেন ঝিনাইদহ-২ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘গতকাল সংসদে আইনমন্ত্রীকে সামনে রেখেই আমি বিষয়টি উত্থাপন করেছি, কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি।’
মানববন্ধন থেকে আইনমন্ত্রীকে তাঁর অবস্থান পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়। আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, তিনি যেন তাঁর অবস্থান থেকে সরে এসে ঝিনাইদহ শহরে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অন্যথায় ঝিনাইদহবাসী আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।
মানববন্ধনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল আলিম, সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, ডা. কামাল হোসেন, ডা. মনিরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহসভাপতি ও জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবিরসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।
মানববন্ধনে অন্য বক্তারা বলেন, ঝিনাইদহ সদর জেলার কেন্দ্রস্থল হওয়ায় এখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে জেলার সব উপজেলার মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা সুবিধা পাবে।