ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আব্দুল হাই। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক এখন জেলা প্রশাসক নন, তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।’
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল হাই অভিযোগ করেন, যোগ্যতা ও নীতিমালা অনুসরণ না করে রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নিয়োগ বাতিল না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন আব্দুল হাই।
মানববন্ধনে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর সার ডিলার নিয়োগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে আগামী ৩১ মার্চের লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মো. আবু তালিব অভিযোগ করেন, ডিলার নিয়োগে দলীয় পরিচয়, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটির সদস্য হয়েও সংসদ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে কৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসনকে দলীয়করণ থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদহ জেলা শাখার নায়েবে আমির আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান, শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।