ঝালকাঠির রাজাপুরে গভীর রাতে বাসায় ঢুকে নওরীন (২৪) নামে এক নার্সকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়েছে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় আহত নওরীনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই ভবনের তৃতীয় তলার আরেকটি বাসার দরজাও খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে ওই বাসা থেকে কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আজ বুধবার ভোরে রাজাপুর শহরের আদর্শপাড়া এলাকায় ফকির কাউয়ুম হোসেনের ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নওরীন ওই ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া গ্রামের মো. মোসলেম মোল্লার মেয়ে। তাঁর স্বামী মো. শাহিন হোসেন (২৯) ও তিনি দুজনই স্থানীয় সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় নওরীনের স্বামী হাসপাতালে নাইট শিফটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর শাশুড়িও বাসায় না থাকায় ওই রাতে নওরীন একাই ছিলেন। গভীর রাতে রান্নাঘরের অ্যাডজাস্ট ফ্যান বসানোর ফাঁকা জায়গা দিয়ে ওই ব্যক্তি বাসার ভেতরে প্রবেশ করে।
উপস্থিতি টের পেয়ে নওরীন চিৎকার করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সে ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে দেয়। পরে রান্নাঘরে থাকা সবজি কাটার চাকু দিয়ে নওরীনের মুখমণ্ডল, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। একপর্যায়ে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে স্বর্ণালংকার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে একই পথ দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে নওরীন মোবাইল ফোনে তাঁর স্বামীকে বিষয়টি জানান। তাঁর স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে রাজাপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বাড়ির মালিক ও অন্যান্য ভাড়াটিয়ার সহায়তায় দরজা ভেঙে নওরীনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে সোহাগ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁর ডান হাতে পাঁচটি ও ডান পায়ে তিনটি সেলাই দেন। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে।