হোম > সারা দেশ > ঝালকাঠি

ঘুষের অভিযোগ সাজিয়ে এএসআইকে ফাঁসানোর চেষ্টায় মামলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠি সদর থানার এএসআইকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝালকাঠি সদর থানার এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে সাংবাদিক পরিচয়দানকারীসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঝালকাঠি সদর থানায় মো. আজাদ খান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলায় মো. সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওন (৪০) ও আব্দুর রহিম মুন্নাকে (২৫) আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি এলাকায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার দেউলকাঠি গ্রামের বাসিন্দা আজাদ খান নারায়ণগঞ্জের একটি রডের দোকানে কাজ করেন। তিনি বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য ঝালকাঠি কৃষি ব্যাংকের কোনো শাখা থেকে ঋণ নেননি। অথচ তাঁর বাড়িতে ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত কয়েকটি নোটিশ আসে। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই ঋণসংক্রান্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আজাদকে খোঁজ করতে দেউলকাঠি এলাকায় যান এএসআই মোহিত চন্দ্র হালদার।

এজাহারে বলা হয়েছে, পরিচিতজনের মাধ্যমে অভিযুক্ত সোহাগ মোল্লার সঙ্গে আজাদের যোগাযোগ হয়। বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে যাতায়াত খরচ বাবদ তাঁর কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেন সোহাগ মোল্লা। পরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং আরও ২১ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

আজাদের অভিযোগ, তিনি তখন দুই হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে দেওয়ার কথা জানান। পরে তাঁকে ঝালকাঠিতে যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে একপর্যায়ে আজাদ ও তাঁর চাচাতো ভাইকে আদালতের পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এএসআই মোহিত চন্দ্র হালদারকে ফাঁসানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আজাদকে দিয়ে এএসআই মোহিতের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করানোর চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশের ধাওয়ায় খালে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও এক্স-রে করানোর জন্য তাঁকে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আজাদ।

পরে তিনি একটি এটিএম বুথ থেকে ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে অভিযুক্তদের একজনকে ১৯ হাজার টাকা দেন। আজাদকে নির্দিষ্ট বক্তব্য দিতে এবং সেই বক্তব্যের ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের কথাও বলা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজাদ খানের অভিযোগ, এএসআই মোহিত চন্দ্র হালদারকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এমন কর্মকাণ্ড করা হচ্ছিল। পরে তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানান এবং সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওন ও আব্দুর রহিম মুন্নার বিরুদ্ধে মামলা করেন। সোহাগ মোল্লা নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন।

অভিযোগের বিষয়ে সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। আব্দুর রহিম মুন্নার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।