ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভীমরুলী ভাসমান পেয়ারার হাট পরিদর্শনের পর বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রেও বাংলাদেশের পেয়ারা রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।
আজ রোববার সকালে স্ত্রী ডিয়ান ডাওকে সঙ্গে নিয়ে ভীমরুলী সফরে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ, হাটের কর্মচাঞ্চল্য এবং পেয়ারা চাষিদের নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো উষ্ণ অঞ্চলে সীমিত পরিসরে পেয়ারা চাষ হয়। বাংলাদেশের পেয়ারার গুণগত মান ও স্বাদের প্রশংসা করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পেয়ারা রপ্তানির সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি তাঁর দেশের সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন।
ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, ‘এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ আমাকে অভিভূত করেছে। কৃষকদের পরিশ্রম এবং হাটের প্রাণচাঞ্চল্য সত্যিই প্রশংসনীয়।’
আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে ভীমরুলীতে পৌঁছালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাওছার হোসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। সফরসূচির শুরুতে তিনি স্থানীয় একটি মন্দিরে কিছু সময় কাটান।
এরপর একটি ছোট নৌকায় চড়ে ভাসমান পেয়ারার হাটের কেনাবেচা, পরিবহন ও স্থানীয়দের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তী সময়ে ইঞ্জিনের ট্রলারে চড়ে পুরো এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় পেয়ারা চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি পেয়ারা চাষ পদ্ধতি, উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের খোঁজখবর নেন ও পেয়ারার স্বাদ নেন।
বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান কৃষি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ভীমরুলী হাট। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আগমনকে ঘিরে স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়।
এ সফরে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস এম বায়জীদ ইবনে আকবর উপস্থিত ছিলেন। ভীমরুলী পরিদর্শনের পর মার্কিন প্রতিনিধিদল বরিশালের কড়াপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মিঞা বাড়ি মসজিদের উদ্দেশে রওনা হয়।