যশোরের চৌগাছায় মন্দিরের সামনের খালপাড় থেকে কাজল ঘোষ (৪৬) নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মরদেহের পাশে কীটনাশক ও সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও সেখানে ছিল। পরিবার বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি তিনি।
আজ শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের জামিরা কালীমন্দিরের সামনের খালপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত কাজল ঘোষ ফুলসারা ইউনিয়নের জামিরা মিত্রপাড়ার মৃত কালিদাস ঘোষের ছেলে। তিনি পেশায় দরজি, তাঁর একটি টেইলার্সের দোকান রয়েছে।
কাজলের স্ত্রী রুপা ঘোষ জানান, গতকাল সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে দুপুরের পর রাতেও বাড়ি না ফেরায় শাশুড়ি ও মেয়েকে নিয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। আজ বেলা ৩টার দিকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মাসুম ঘটনাস্থলের পাশে তালগাছে তাল পাড়তে ওঠেন। তিনি গাছ থেকে খালপাড়ে মোবাইল ফোনের রিংটোনের আওয়াজ শোনেন এবং মাছি উড়তে দেখে নিচে নেমে আসেন। পরে সেখানে কাজল ঘোষের লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে থানা-পুলিশে খবর দেন।
নিহত কাজলের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাজল ঘোষ ১২টি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি করেছিলেন। ঋণ পরিশোধের একটা চাপ ছিল তাঁর।
থানা-পুলিশ জানায়, উপপরিদর্শক আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশের পাশ থেকে ফুরাডানের কৌটা (কীটনাশক) ও সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে শরীরে সিরিঞ্জ পুশের আলামত পাওয়া গেছে।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা গেলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না।