জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলেও যশোরের ছয়টি আসনের পাঁচটিতেই মেটেনি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আসনগুলোয় মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী কিংবা তাঁদের অনুসারীদের এখনো মাঠে নামাতে পারেনি দলটি। মনোনয়নবঞ্চিত এই অংশের নিষ্ক্রিয়তায় আসনগুলোয় বিএনপির প্রার্থীরা বড় চ্যালেঞ্জে পড়বেন বলে দলের নেতা-কর্মীরাই আশঙ্কা করছেন।
দলীয় সূত্র বলেছে, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিলেও স্থানীয় পর্যায়ের বড় অংশ তা মানছে না। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। তৃণমূলের কর্মীরা বলছেন, দলীয় এই দ্বিধাবিভক্তির সুযোগ নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।
যশোর-১ (শার্শা) আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন চার নেতা। আসনটিতে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয় নুরুজ্জামান লিটনকে। এতে ক্ষুব্ধ তৃপ্তির অনুসারীরা। প্রতীক বরাদ্দের পরও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না তৃপ্তি, জহির ও মধুর অনুসারীদের।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন হাফ ডজন নেতা। মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেরা সুলতানা। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন চৌগাছা উপজেলার সাবেক সভাপতি জহিরুর ইসলাম। যদিও প্রতীক বরাদ্দের আগের রাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। তবে প্রচারের তিন দিন পার হলেও তাঁকে মাঠে দেখা যায়নি। আরেক মনোনয়নবঞ্চিত মিজানুর রহমান খানকেও প্রচারে দেখা যাচ্ছে না।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টি এস আইয়ুব। তবে ঋণখেলাপি হওয়ায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেছে কমিশন। পরে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় অভয়নগর বিএনপির সভাপতি মতিয়ার ফারাজীকে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে একাংশের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচারে নেমেছেন তিনি।
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। পরে মনোনয়ন দেওয়া হয় সাবেক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি রশীদ আহমাদকে। তিনি ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হন ইকবাল। এর জেরে তাঁকে বহিষ্কার করে বিএনপি। তারপরও প্রচার চালাচ্ছেন তিনি।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। মনোনয়নবঞ্চিত ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপুর অনুসারীরা এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।