হোম > সারা দেশ > যশোর

মাকে হত্যার দুই মাস পর তাঁর কবরের পাশেই শায়িত ঘাতক ছেলে

যশোর প্রতিনিধি

মায়ের কবরের পাশেই মামুনুর রশিদকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যে মাকে বঁটির কোপে হত্যা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ছেলে মামুনুর রশিদ (৪৫)। দুই মাস আগে মায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো গ্রাম। ক্ষোভ আর ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। কিন্তু মৃত্যুর পর সেই সন্তানকেই ক্ষমা করে দিলেন বাবা ও বড় ভাই। তাঁদের উদ্যোগেই মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হলো মামুনকে। ঘটনাটি যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের।

মামুনুর রশিদ ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। তিনি বাজে দুর্গাপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৭ আগস্ট পারিবারিক বিষয় নিয়ে মা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান মামুন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ধারালো বঁটি দিয়ে মায়ের গলায় কোপ দেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই আনোয়ারা বেগমের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে বঁটি ফেলে পালিয়ে যান মামুন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ তাঁকে আটক করে এবং হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ২৮ অক্টোবর হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন মামুন। তাঁকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার রাত ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশি পাহারায় মামুনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। জানাজার আগে বাজে দুর্গাপুর আঞ্জুমানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। মায়ের হত্যাকারী হলেও মামুনকে সন্তান হিসেবে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তাঁর বাবা আলতাফ হোসেন ও বড় ভাই প্রভাষক মঞ্জুর হাসান। পরে জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নেন। পারিবারিক সিদ্ধান্তে মায়ের কবরের পাশেই দাফন করা হয় মামুনকে।

মামুনের বাবা আলতাফ হোসেন বলেন, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রায় আট-নয় বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামে বিয়ে করেন তিনি। দাম্পত্যকলহের জেরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামে বিয়ে করেন মামুন। প্রায় ছয় বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর বিচ্ছেদ হয়। দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য মামুন তাঁর মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হতো।

আলতাফ হোসেন বলেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁকে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও করানো হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলতাফ হোসেন বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনায় স্ত্রীকেও হারালাম, সন্তানকেও হারালাম। প্রথমে অনেক ক্ষোভ জন্মালেও হাজার হলেও তো ছেলে; তাই তাকে মাফ করে দিয়েছি। তার জানাজায়ও ছেলের পক্ষে এলাকাবাসীর কাছে মাফ চেয়েছি। আমার ছেলেকেও মাফ করুক, আমার স্ত্রীকেও আল্লাহ মাফ করুক—সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই চাওয়া।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য গোলাম রব্বানি বলেন, ছেলের হাতে মা খুনের ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীই মামুনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। তবে তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহ বাড়িতে এলে মানুষের ঢল নামে। স্বজনদের ইচ্ছায় মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামুনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রেমিকার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় দম্পতিকে হত্যা

মাকে গলা কেটে হত্যা, কারা হেফাজতে হৃদ্‌রোগে সেই শিক্ষকের মৃত্যু

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তের আগুন, ২ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪১ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

কেশবপুরে সেচপাম্পের হাউসে পাওয়া দুই মরদেহ স্বামী-স্ত্রীর

ক্রসফায়ার শুরু হলে দলের একটা লোককেও খুঁজে পাবেন না: বিএনপিকে হাসনাত আবদুল্লাহ

যশোরে অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ব্যাগ ছিনতাইচেষ্টার অভিযোগে যুবক আটক

কেশবপুরে ধানখেতের আইলের পাশের ড্রেনে দুই নারী-পুরুষের মরদেহ

এক দফার আগে সাত দফা মেনে নিন: যশোরে জামায়াতের আমির

এইচএসসিতে যশোরে পাসের হার ৪৪.৯২, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩২২৮ জন