বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তিন ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন শ্রমিকেরা। এতে বন্দরের পণ্য খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
এর আগে শ্রমের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবিতে সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকেরা।
কর্মবিরতির ফলে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা দেয়। এতে পণ্যজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
জানা যায়, বন্দরটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ ও হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজের অধীনে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক পণ্য খালাসের কাজে নিয়োজিত। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মজুরি তুলনামূলকভাবে কম এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় না।
বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ না থাকা এবং দাবি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শ্রমিকেরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হন।
পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন। শ্রমিকনেতারা জানান, জুলাইয়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আবারও কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।
বর্তমানে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।