হোম > সারা দেশ > জামালপুর

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনা

মা, মেয়ে আর নাতিকে নিয়ে গাজীপুরে ফেরা হলো না মোফাজ্জলের

জামালপুর প্রতিনিধি 

নিহতের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: আজকের পত্রিকা

মা, মেয়ে ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থল গাজীপুরের হোতাপাড়ার বাসায় ফিরছিলেন মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫)। তাদের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটাবেন, এমনই ছিল পরিকল্পনা। কিন্তু সেই বাসায় আর ফেরা হলো না তাদের। পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা, মেয়ে ও নাতিসহ প্রাণ হারালেন মোফাজ্জল।

আজ শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় জামালপুরগামী একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসচাপায় অটোরিকশার চালকসহ সাতজন নিহত হন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তাঁর মা রাশিদা বেগম, মেয়ে মর্জিনা ও মর্জিনার ছেলে মোজাব্বিদ ইসলাম মিনান।

মোফাজ্জলের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার দড়ি হামিদপুর গ্রামের ভাটিপাড়ায়। গাজীপুরের হোতাপাড়ায় থাকতেন তিনি। পেশায় রাজমিস্ত্রি হলেও বর্তমানে ঠিকাদারি করতেন। স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরেই থাকতেন তিনি।

গ্রামের বাড়িতে গেলে স্বজনেরা জানান, মা, মেয়ে ও নাতিকে কিছুদিন গাজীপুরের বাসায় রাখার ইচ্ছা ছিল মোফাজ্জলের। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের দেখতে প্রায় প্রতি মাসেই গ্রামের বাড়িতে আসতেন তিনি। এবারও এসেছিলেন মায়ের কাছে। কিন্তু প্রিয়জনদের নিয়ে আর ফেরা হলো না তাঁর।

আজ শুক্রবার সকালে খাওয়া-দাওয়া শেষে মা, মেয়ে ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মোফাজ্জল। নান্দিনা বাজারের সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। গন্তব্য ছিল গাজীপুরের হোতাপাড়া। পথে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাসের কাছাকাছি পৌঁছালে জামালপুরগামী রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসচাপায় অটোরিকশার চালক জুয়েলসহ সাতজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর মোফাজ্জলের গ্রামের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন তাঁদের বাড়িতে।

মোফাজ্জলের এক স্বজন ইসমত আরা বলেন, ‘আজ সকালেই আমার ভাশুর মোফাজ্জল হোসেন লেবু, আমার শাশুড়ি রশিদা বেগম, ভাশুরের মেয়ে মর্জিনা এবং মর্জিনার ছেলে মিনানকে নিয়ে গাজীপুরের হোতাপাড়ায় যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ থেকে পুলিশের মাধ্যমে আমরা বেলা আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনার খবর পাই।’

ইসমত আরা আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আগামীকাল সকালে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।