হোম > সারা দেশ > জামালপুর

ইসলামপুরে কাবিখা প্রকল্প: নামমাত্র কাজ করে চাল-গম আত্মসাতের অভিযোগ

এম. কে. দোলন বিশ্বাস, ইসলামপুর (জামালপুর) 

ইসলামপুরের পূর্ব সিরাজাবাদ নদরুর বাড়িসংলগ্ন সেতুর পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

জামালপুরের ইসলামপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের গৃহীত কাজের বিনিময়ে খাদ্যশস্য (কাবিখা) প্রকল্পের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র কাজ করে সরকারি বরাদ্দের চাল-গম আত্মসাত করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে কাবিখা কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে এ উপজেলায় ৪৮ টন ৩২০ কেজি চাল এবং ৩৮ টন ৬৮০ কেজি গম বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে চালের বিপরীতে আটটি এবং গমের বিপরীতে পাঁচটি প্রকল্প গ্রহণ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কাজ শুরু করা হয়। গত ৩০ জুন প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলগাছার মিয়াপাড়া তাঁরা শেখের বাড়ি থেকে নজরুল মিস্ত্রীর বাড়ির অভিমুখে রাস্তা পুননির্মাণে ৫ টন ৫৫০ কেজি চাল বরাদ্দের প্রকল্পে কাজ হয়েছে নামমাত্র।

স্থানীয় বেলাল এবং সুজন বলেন, মাহিন্দ্র গাড়ি ব্যবহার করে কাজ করা হয়েছে। ২৫-৩০ গাড়ি মাটি রাস্তায় দেওয়া হয়। এতে বরাদ্দের অর্ধেক চালও ব্যয় হয়নি।

প্রকল্পের সভাপতি ও বেলগাছা ইউপির সদস্য বাবুল আকন্দ বলেন, ‘ঠিকমতোই কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে গেছে।’

চিনাডুলীর পূর্ব বামনা আছাদ আলীর পুকুরপাড় হতে আব্দুস ছালামের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণে ৫ টন ৫৩০ কেজি চাল বরাদ্দ হয়। এতেও তেমন কোনো কাজ হয়নি। প্রকল্পটির সভাপতি কে—জানতে চাইলে চিনাডুলী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম বলেন, ‘হয়তো আমি সভাপতি, না হয় মহিলা মেম্বার। কাজ ঠিকঠাক মতোই করা হয়েছে।’ পরবর্তী সময়ে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই প্রকল্পটির সভাপতি।

পাথর্শীর হাড়িয়াবাড়ি পূর্বপাড়া স্বাধীনের বাড়ি হতে তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত রাস্তা এইচবিবিকরণে ৭ টন ২৭০ কেজি চাল বরাদ্দ আসে। স্থানীয় বাসিন্দা আকবর এবং পারভীন বলেন, ‘প্রকল্পটিতে অর্ধেক চাল ব্যয় করেছে।’

প্রকল্পটির সভাপতি ও পাথর্শী ইউপি সদস্য ফুলু শেখ বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবের পরামর্শে কাজ করা হয়েছে।’

পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবলু বলেন, ‘আমার সঙ্গে সমন্বয় করা হয় না। আমি নামমাত্র চেয়ারম্যান পদে আছি।’

কাঠমা ফয়েজভানী দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের রাস্তা পুননির্মাণে ৯ টন ৬৬০ কেজি চাল বরাদ্দ আসে। স্থানীয় বাসিন্দা আলমাছ এবং সোহেল বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। কেউ কাজ করতেও আসছে না।’

প্রকল্পটির সভাপতি ও নোয়ারপাড়া ইউপির সদস্য রকিবুল হাসান বলেন, ‘সাত মাস আগে কাজ শেষ করেছি। ইউএনও স্যারের দিকনির্দেশনায় কাজ করা হয়েছে।’

পূর্ব সিরাজাবাদ নদরুর বাড়িসংলগ্ন সেতুর পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণে ৪ টন ২১০ কেজি গম বরাদ্দ আসে। এলাকাবাসী আকবর, সুজা এবং জবেদ বলেন, ‘১৫-২০ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজ করে বরাদ্দের বাকি চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।’

পলবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমল বলেন, ‘বরাদ্দ যেমন, কাজ তেমন। চাল আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

ইউএনও শাহ্ মো. জুবায়ের বলেন, ‘এ উপজেলায় আমার যোগদানের আগেই প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ছাড় দেওয়া হয়েছে। যাঁরা তদারকিতে ছিলেন, বিষয়টি তাঁদেরই খতিয়ে দেখার দায়িত্ব।’

তৎকালীন ইউএনও নামজুল হুসাইন বলেন, ‘প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হয়ে থাকলে বিল না দিতে পিআইওকে নির্দেশনা দিয়েছি।’

ইসলামপুরে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বকশীগঞ্জের পিআইও মো. হাবীবুর রহমান সুমন বলেন, ‘প্রকল্প পরিদর্শন করে বিল দিয়েছি। যথাযথভাবে কাজ না করে থাকলে কাজ করানো হবে।’ গত ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন কীভাবে কাজ করানো হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাজ শেষ হয়েছে মর্মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়নি। মাঠ পর্যায়ে কাজ চলমান।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।’