জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেনের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনের এসব উদ্যোগ ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে মাদক সেবনের অপরাধে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ইউএনও শাহ জহুরুল হোসেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাদকসেবীদের অসচ্ছল পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে মাদক সেবনের দায়ে বেশ কয়েকজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবারের নিরপরাধ সদস্যরা যেন শাস্তির প্রভাবে মানবিক সংকটে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা মাদকসেবীদের অসচ্ছল পরিবারগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বেড়েছে। বিশেষ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত মাদকসেবীদের পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।’
স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খাদেমুল ইসলাম, তারেক মাহমুদ, রাজ্জাক মিকা, মহসিন রেজা রুমেল ও শামছুল হুদা রতন বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা মাদকসেবীদের অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।’
মিতালী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ইউএনও স্যার বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত মাদকসেবীদের পরিবারের সদস্যদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।’
ইউএনও শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, ‘উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মাদক সেবনের দায়ে বেশ কয়েকজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে মাদক-কাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত অসচ্ছল ব্যক্তিদের পরিবারের নিরপরাধ সদস্যরা যাতে মানবিক সংকটে না পড়েন, সে বিষয়টি বিবেচনা করেই খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’