জামালপুরের ইসলামপুরে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ২৪ দিন পর অবশেষে ভুক্তভোগীর মামলা নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ইসলামপুর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের মধ্য বেলগাছা এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে আবু তালেব ওরফে মোতালেবকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পরও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সুযোগে চুরিতে অভিযুক্ত মোতালেব উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মারধর ও চুরির অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই ভুক্তভোগী শহিদুর রহমান বিসুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট রাতে বেলগাছা ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া এলাকায় শেখ ফরিদের একটি মুরগির খামার থেকে বৈদ্যুতিক পাখা ও বড় বাল্ব চুরি হয়। খামারে ফেলে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন ও ফাইলের সূত্রের ভিত্তিতে স্থানীয়দের সহায়তায় মোতালেবকে চোর শনাক্ত করা হয়। পরদিন ৩১ আগস্ট সকালে শেখ ফরিদ ও তাঁর স্বজনেরা মোতালেবের বাড়িতে গেলে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একই দিন দুপুরে শেখ ফরিদ বাদী হয়ে মোতালেবকে আসামি করে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর চুরি হওয়া একটি ফ্যান উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মোতালেবকে আটক করতে যান গুঠাইল তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা। টের পেয়ে মোতালেব হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত হন। তখন পুলিশ সদস্যরা তাঁকে রেখেই ফিরে যান। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর চুরিতে অভিযুক্ত মোতালেব বাদী হয়ে শেখ ফরিদ ও তাঁর ভাই শহিদুর রহমান বিসুসহ পাঁচজনকে আসামি করে জামালপুর আদালতে মারধর ও চুরির মামলার আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিলে ইসলামপুর থানা-পুলিশ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। গত সোমবার ওই মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শহিদুর রহমান বিসুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। পরে মঙ্গলবার মো. সাইম ও জাকিরুল ইসলাম নামে আরও দুজন আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন।
এ বিষয়ে দৈনিক আজকের পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে গত ২২ সেপ্টেম্বর ‘চুরির ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে, উল্টো ভুক্তভোগীরা আসামি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। এরপরেই ভুক্তভোগী শেখ ফরিদের আগে জমা দেওয়া অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ।
চুরির মামলা নিতে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, চুরির ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি আপস-মীমাংসা করা হবে বলে বাদী প্রথমে থানায় জানিয়েছিলেন কিন্তু পরে আর যোগাযোগ করেননি। ফলে মামলাটি নথিভুক্ত করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।