হোম > সারা দেশ > জামালপুর

ইসলামপুরে এসআই জিল্লুরের বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ

এম. কে. দোলন বিশ্বাস, ইসলামপুর (জামালপুর) 

ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিল্লুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, তদন্তের নামে ঘুষ গ্রহণ এবং বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কখনো মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে, কখনো তদন্তের কথা বলে এবং আবার কখনো থানায় আটকে রেখে টাকা আদায় করেন তিনি। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডে সেবাপ্রার্থীরা অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন এসআই জিল্লুর রহমান।

এসআই জিল্লুরের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে আইনগত প্রতিকার চেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন জহুরুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী। তিনি ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের শিংভাঙ্গা গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে।

মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগ

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই বিকেলে পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে একই এলাকার মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে দেলু ও লিটনের লোকজন জহুরুল ইসলামকে মারধর করেন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ছয় দিন চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফেরেন।

এ ঘটনায় জহুরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. হামেদা বেগম বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এসআই জিল্লুর রহমান খরচবাবদ টাকা দাবি করেন। পরে জহুরুল তাঁকে সাড়ে চার হাজার টাকা দেন। এরপর অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য আরও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ জহুরুলের।

একপর্যায়ে জহুরুল ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর গত ৩ আগস্ট অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দফায় ২৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও এখন পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেননি এসআই জিল্লুর। উল্টো তিনি রাগারাগি করেন। জানতে পেরেছি, আসামিদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন তিনি। আমরা মামলার কার্যক্রম নিয়ে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।’

থানায় আটকে রাখার অভিযোগ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৩০ মে সন্ধ্যায় উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য আশরাফ আলীর সঙ্গে তাঁর প্রতিবেশী কোরবান আলীর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই কোরবান আলী বাদী হয়ে আশরাফ মেম্বার, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন বিকেলে মোবাইল ফোনে আশরাফ আলীকে থানায় ডেকে নেন এসআই জিল্লুর। পরে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন আশরাফ। রাত ১১টার দিকে কোরবান আলীর সঙ্গে ভবিষ্যতে আর কোনো বিরোধে জড়াবেন না—এমন মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আশরাফ আলী বলেন, ‘মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তবে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে থানায় আটকে রেখে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর আমাকে ছেড়ে দিয়েছেন এসআই জিল্লুর।’

মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

গত ১১ জুলাই গভীর রাতে মোবাইল ফোনে সম্পর্কের জের ধরে পাশের বকশীগঞ্জ উপজেলার এক কলেজছাত্র কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে ইসলামপুরের একটি মাদ্রাসার ছাত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসে বলে জানা গেছে। বিষয়টি ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারলে ওই কলেজছাত্র সেখান থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর দুই সহযোগীকে আটক করে।

পরদিন ১২ জুলাই এসআই জিল্লুর ওই দুই তরুণকে ছাত্রীর বাবার বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যান। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলে এবং সংশ্লিষ্টরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারের জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় জড়িত অপর দুই তরুণের বাড়িতে গিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁদের স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেন এসআই জিল্লুর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘বকশীগঞ্জে আমাদের বাড়িতে এসে এসআই জিল্লুর মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়েছেন। পরে আমরা তাঁকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি।’

এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবদল নেতা অভিযোগ করেন, মামলা করতে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়ার পর উল্টো প্রতিপক্ষের মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার এসআইয়ের

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ ঠিক নয়। আমি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে এক টাকার ঘুষ গ্রহণের সত্যতাও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।’

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এসআই জিল্লুরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’