হোম > সারা দেশ > জামালপুর

স্ত্রীর কাছে সম্পর্ক ফাঁসের পরই হত্যা করা হয় মিমিকে: পিবিআই

জামালপুর প্রতিনিধি 

নুশরাত জাহান মিমি হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাউসারকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। ছবি: আজকের পত্রিকা

জামালপুরে নুশরাত জাহান মিমি হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিমির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি কাউসারের স্ত্রী জানার পরই শ্বাস রোধ করে মিমিকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় পিবিআই কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়। পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, গত রোববার (২৩ আগস্ট) পৌর এলাকার পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেটসংলগ্ন বাবুল মিয়ার বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলায় নুশরাত জাহান মিমির হত্যাকাণ্ড হয়। এ ঘটনার পর গতকাল সোমবার মিমির মা মোছা. মুক্তা বেগম বাদী হয়ে কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা দুজনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর পিবিআই তদন্তভার নেয়।

পুলিশ সুপার পংকজ বলেন, ২০১৪ সালে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার খাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে নুশরাত জাহান মিমির বিয়ে হয় শাওনের সঙ্গে। ২০২১ সালে শাওনের মৃত্যুর পর মিমি সন্তানদের নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস করতে থাকেন। তিন বছর আগে কাউসার আহমেদ খানের মুদিদোকানে কেনাকাটার সুবাদে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় এবং কাউসারকে জানান তাঁর স্বামী কাতারপ্রবাসী। এর পর থেকে ওই দোকান থেকে নগদে ও বকেয়ায় কেনাকাটা করতে থাকেন মিমি। এরই মধ্যে একদিন রাতে বকেয়া টাকা পরিশোধের কথা বলে কাউসারকে বাসায় ডেকে নেন। একপর্যায়ে কাউসারকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাঁকে জানান তাঁর স্বামী কাতারপ্রবাসী নন, তিনি মারা গেছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে অনৈতিক সর্ম্পকে জড়িয়ে যান। পরিকল্পিতভাবে গোপনে সেই ভিডিও ধারণ করে রাখেন মিমি। গোপনে করা সেই ভিডিও দিয়েই কাউসারকে ব্ল্যাকমেল করতেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন সম্পর্কের কারণে কাউসারের জমিজমা, টাকাপয়সা এমনকি স্ত্রীর গয়না বিক্রির টাকাও মিমিকে দিতে হয়েছে।

পিবিআই জানায়, মিমি নিজে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একপর্যায়ে কাউসারকে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেন। শুধু কাউসার নন, অন্যদের সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্ক ও নেশায় মেতে থাকতেন মিমি। তাঁর এই কর্মকাণ্ডে কাউসারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। ঘটনার দিন মিমি কাউসারকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান এবং তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মিমি তাঁদের সম্পর্কের কথা কাউসারের স্ত্রীকে জানান ফোনে। কাউসারকে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বললে মিমিকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে তিনি পালিয়ে যান।