বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসার পর প্রেমিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে প্রেমিকের বাড়িতে টানা সাত দিন ধরে অনশন করছেন ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রী। তবে বিচারে সাড়া না দিয়ে প্রেমিকের পরিবার তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন ও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনশনরত তরুণী কাঠার বিল ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তাঁর প্রেমিক জীবন মিয়া (২৫) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে সৈয়দপুরে কর্মরত আছেন।
এদিকে টানা সাত দিনেও এ ঘটনার কোনো সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। বিচারে সুরাহা ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের পোড়াবিটা-তারাটিয়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মোবাইল ফোনে ওই তরুণীর সঙ্গে তারাটিয়া-পোড়াবিটা এলাকার জীবন মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের বিষয়টি উভয় পরিবারই অবগত ছিল। এ নিয়ে পূর্বে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও জীবনের পরিবার এ বিয়েতে সায় দেয়নি।
ভুক্তভোগী তরুণীর বড় বোন অভিযোগ করে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার বিয়ের কথা বলে জীবন মোটরসাইকেলে করে আমার বোনকে আমাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে নিজ বাড়িতে রেখে জীবন আত্মগোপন করে। এখন জীবনের পরিবারের লোকজন তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।’
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা রাহিম ও সাব্বির হোসেন জানান, একটি মেয়ে সাত দিন ধরে সুবিচারের আশায় অনশন করছে, অথচ ছেলেটির পরিবার তাঁর ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। একাধিকবার সালিস সত্ত্বেও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় তাঁরা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চান।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মেয়েটি এখনো ছেলের বাড়িতেই অবস্থান করছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তাঁদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।,