হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জে খোয়াই নদের বাঁধে দেড় মাসের ব্যবধানে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে ঢুকে কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানির প্রবল চাপে ভেঙে যায় কালীগঞ্জ বাঁধ, এরপর লোকালয়ে ঢুকতে থাকে পানি। এরই মধ্যে সুঘর, চরহামুয়া, বনগাঁও, আদ্যপাশাসহ কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। রাতের মধ্যে আরও ২০-২৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। অনেকে এরই মধ্যে ঘরের আসবাব সরিয়ে নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
গত ৯ জুলাই রাতে একই বাঁধ ভেঙে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। এতে শতকোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে এলাকাবাসী। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করলেও তাতে ধীরগতি এবং অনিয়মের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা।
সুঘর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘সঠিক সময়ে বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আমাদের দ্বিতীয়বার ভাঙনের কবলে পড়তে হলো। বাড়ির চারপাশের হাওরের পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এতে আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি।’
বনগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া বলেন, ‘বাঁধ মেরামতে কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে। তা না হলে মেরামতে এত দিন লাগার কথা নয়। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সবার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছাড়তে শুরু করেছে।’
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাঁধ পরিদর্শন করেছি। পানি কমলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হবে।’ মেরামতে অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম হয়নি। আমরা কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করেছি, প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্নও হয়েছিল। তবে বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।’