হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের তাড়ানগাঁও গ্রামের কিষানি সন্ধ্যা রানী দাশ। টানা বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া জমির দিকে তাকিয়ে তাঁর চোখের পানি বাঁধ মানছে না। প্রায় ১০ কিয়ার পাকা ধানই ছিল তাঁর পরিবারের একমাত্র সম্বল। এনজিও সংস্থা ‘রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)’ এবং ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের আওতায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বর্গা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন তিনি।
দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জমিতে ফসল ফলিয়েছেন। আশা ছিল, ধান ঘরে তুলে ঋণ শোধ করবেন, সচ্ছলতার মুখ দেখবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে। হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে পুরো খেত তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এখন ঋণের চাপ আর দশজনের সংসার চালানোর দায়—সব মিলিয়ে এক অসহায়ত্ব আর নিদারুণ কষ্টে দিন কাটছে তাঁর।
এই পরিস্থিতি শুধু সন্ধ্যা রানী দাশের একার নয়, নবীগঞ্জ হাওরাঞ্চলের বেশির ভাগ কৃষক এখন এমন কঠিন বিপদের মুখে পড়েছেন। উপজেলার হাওরাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে পাকা বোরো ধান। কোথাও পাকা ধান ডুবে গেছে পানিতে, আবার কোথাও কাটা ধান শুকাতে না পেরে বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। ফলে এক মৌসুমের ফসল হারিয়ে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। হাওরের বুকজুড়ে এখন শুধু পানি আর নিঃস্ব হয়ে পড়া কৃষকের কান্না শোনা যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিতে ৭৫০ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তালিকা প্রস্তুত শেষে তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।