হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের দুর্গম বনাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ফের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে বিজিবি-৫৫ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ৬টি পিস্তল, ৭টি ম্যাগাজিন এবং ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
বেলা সাড়ে ১১টায় ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি-৫৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতছড়ি রিজার্ভ ফরেস্টের দুর্গম পাহাড়ি ও ঘন জঙ্গলে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সীমান্ত পিলার ১৯৭৮ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাটির নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ছয়টি পিস্তল, সাতটি ম্যাগাজিন ও বিভিন্ন ধরনের ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অন্যান্য অপরাধে ব্যবহারের জন্য দুষ্কৃতকারীরা অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো দুর্গম এলাকায় লুকিয়ে রেখেছিল। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান আরও বলেন, গত তিন মাসে ৫৫ বিজিবির অভিযানে সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৪১ লাখ টাকা মূল্যের ২৩৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ২ হাজার ৫৮৫টি ইয়াবা, ৫৯ বোতল মদ ও ২১টি গরু আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফা অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৩৩৪টি কামানবিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, একটি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, একটি বেটা গান, ছয়টি এসএলআর, একটি অটো রাইফেল, পাঁচটি মেশিনগানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল ও প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড গুলিসহ বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার করে র্যাব।
এরপর ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর চতুর্থ দফার অভিযানে তিনটি মেশিনগান, চারটি ব্যারেল, আটটি ম্যাগাজিন, ২৫০ গুলি ধারণক্ষমতার আটটি বেল্ট ও উচ্চ ক্ষমতার একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়। পরদিন আরও ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাতছড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪০ এমএম অ্যান্টি ট্যাংক রকেট উদ্ধার করা হয়। ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর উদ্ধার করা হয় ১৩টি রকেট লঞ্চারের শেলসহ বেশ কিছু বিস্ফোরক।
২০২১ সালের ২ মার্চ বিজিবি সাতছড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৮টি ট্যাংকবিধ্বংসী রকেট লঞ্চার উদ্ধার করে। একই বছরের ১৩ আগস্ট উদ্যানের মূল ফটক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মাটির নিচ থেকে নয়টি একনলা বন্দুক, তিনটি পিস্তল ও ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১৫টি রকেট প্রপেলড গ্রেনেড (আরপিজি), ২৫টি বুস্টার ও ৫১০টি লংরেঞ্জ অটোমেটিক মেশিনগানের গুলি উদ্ধার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।