হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে শাশুড়িকে হত্যার দায়ে জামাতা মো. আব্দুল কাদির মিয়াকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আদেশে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক কাঁকন দে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. মুখলেছুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাজাপ্রাপ্ত কাদির মিয়া চুনারুঘাট উপজেলার টেকারঘাট গ্রামের মৃত রেজ্জাক মিয়ার ছেলে।
রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
নিহত শাশুড়ি হলেন চুনারুঘাট উপজেলার দুধপাতিল গ্রামের হাজেরা খাতুন ওরফে মুল্লুক চান।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, স্ত্রী বীনা সরকারের বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল কাদির মিয়ার। এরই জেরে ২০১২ সালের ৬ মার্চ দুপুরে দুধপাতিল গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দা দিয়ে শাশুড়ি হাজেরা খাতুন ওরফে মুল্লুক চানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন কাদির মিয়া।
এ ঘটনায় নিহত হাজেরার ছেলে মো. মনির সরকার বাদী হয়ে কাদির মিয়াকে একমাত্র আসামি করে চুনারুঘাট থানায় মামলা করেন। ২০১২ সালের ৮ মে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেয়। রাষ্ট্রপক্ষের ১৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা শেষে বিচারক আজ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মো. আফজাল হোসেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ এই ধরনের হত্যা মামলা পরিচালনায় ভবিষ্যতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।