সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিশাল আকৃতির একটি পদ্মগোখরা ও দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরীর উপস্থিতিতে সাপ দুটি অবমুক্ত করা হয়। এর আগে কুমিল্লা জেলা থেকে উদ্ধার করার পর স্নেক রেসকিউ টিম ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের কর্মীরা সাপগুলো চুনারুঘাটে নিয়ে আসেন।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মগোখরা প্রধানত নিশাচর। তাই এরা রাতের বেলা খাবারের সন্ধানে বেশি বের হয়। সাধারণ অবস্থায় মানুষ দেখলে পালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু কোণঠাসা বা বিরক্ত হলে ফণা মেলে, গলা ফুলিয়ে হুংকার দেয় এবং প্রয়োজনে ছোবল দেয়। এর বিষ নিউরোটক্সিক, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে দ্রুত অচল করে দেয়।’
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের হবিগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘পদ্মগোখরা বা খৈয়া গোখরা সাপ সাধারণত প্রকৃতিতে ১০ থেকে ২০ বছর বাঁচে। তবে ভালো পরিবেশে বা বন্দিদশায় উপযুক্ত যত্ন পেলে ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। বন্য পরিবেশে খাদ্য সংকট ও শত্রুর কারণে এদের জীবনকাল সাধারণত কম হয়। মানুষের সঙ্গে সংঘাত বা অন্যান্য শিকারির আক্রমণেও অনেক সাপ মারা যায়।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুসহ বনকর্মীরা।