হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে এনামুল হক (৩২) নামের মাদক মামলার আসামি এক হাজতি মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে পরিবারের দাবি, কারাগারে মারধর করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের সামনে পুলিশের সঙ্গে নিহত এনামুলের স্বজনদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এদিকে, হাসপাতালে নিহত এনামুলের লাশের ছবি তুলতে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত এনামুল হক চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ ইউনিয়নের রহমতাবাদ গ্রামের আব্দুর রফিকের ছেলে। গত ১৫ জুলাই একটি মাদক মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আজ ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা হাসপাতালে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, মৃত্যুর খবর পেয়ে এনামুলের মা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ সময় তাঁরা অভিযোগ করেন, কারাগারে মারধর করে এনামুলকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
নিহত এনামুলের বড় ভাই কামরুল হাসান বলেন, ‘আমার ছোট ভাই ভোর ৫টার দিকে মারা গেছে, অথচ আমাদের খবর দেওয়া হয়েছে সকাল ৭টায়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা মনে করি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে।’
নিহত এনামুলের মা রেহানা খাতুন জানান, আজ আদালতে তাঁর ছেলেকে হাজির করার কথা ছিল এবং তাঁর জামিন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছেলেকে আদালতে হাজির না করে তাঁর মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার বিলাল আহমেদ বলেন, এনামুল মাদকাসক্ত ছিলেন। আজ ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। তাঁকে মারধর করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।