গাজীপুরের কালীগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ শুক্রবার উপজেলার মুনশুরপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহের আয়োজন করায় মেয়ের বাবা মো. রাকিবকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরোয়ার লিমা।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রাকিবের বয়স ৩৪ বছর। তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভার মুনশুরপুর এলাকার মৃত আব্দুল মিয়ার ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মুনশুরপুর এলাকায় এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহের আয়োজন চলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ দুপুরে সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে দেখা যায়, কনে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সরকারি জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স এখনো ১২ বছর পূর্ণ হয়নি। অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারা অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় কনের বাবা মো. রাকিবকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযানে বেঞ্চ সহকারী হিসেবে সহযোগিতা করেন মাহবুবুল ইসলাম।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরোয়ার লিমা বলেন, ‘বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অভিশাপ এবং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এটি মারাত্মক অন্তরায়। আমরা খবর পাওয়া মাত্রই বিয়েটি বন্ধ করেছি এবং আইনের ব্যত্যয় ঘটায় কনের বাবাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত রাখতে আমাদের এই কঠোর অবস্থান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
জাকিয়া সরোয়ার লিমা আরও বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পাড়া-প্রতিবেশী ও স্থানীয় জনসাধারণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।