গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে শীতলক্ষ্যা নদী তীরের মাটি লুট করে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ডাম্প ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে এসব মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। সেখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটিখেকো চক্র অনেক প্রভাবশালী। আর প্রশাসনও এদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরামা গ্রামের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় ঘুরে দেখা যায়, পাড়ের প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা গভীরভাবে খনন করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। নদীপাড়ে যেন গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সাংবাদিকেরা আসার আগে মাটিবাহী ট্রলারগুলো দ্রুত চলে গেছে। নদী তীরে মাটি কেটে নেওয়ায় নদীভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে পাড় এলাকার গাছপালাসহ বসতবাড়ি।
স্থানীয়রা জানায়, বরামা গ্রামের বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি চক্র রাতদিন নদীর মাটি কাটার মহোৎসব চালাচ্ছে। নদীর মাটি আশপাশের কয়েকটি ইটভাটায় পাচার করছে তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কয়েক মাস ধরে মাটিখেকোরা নদীর তীরের মাটি কেটে নিচ্ছে। আমরা ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি। আগে গভীর রাতে মাটি লুটপাট করত। এখন দিনদুপুরে মাটি কাটার উৎসব চলছে। নদীর এক কিলোমিটারের বেশি জায়গা খনন করে মাটি কেটে নিয়েছে। মাটি কাটার কারণে আগামী বর্ষায় নদীভাঙন দেখা দিতে পারে। প্রশাসনকে জানালেও মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
নদী পাড়ের বাসিন্দা মনিরা বেগম বলেন, ‘কারা মাটি কেটে নেয়, সেটা সবাই জানে। গ্রামের সব মানুষ চিনে-জানে তাদের। আমরা শুধু দেখতে পারি, বলতে পারি না। তাদের বাধা দেব কী করে, এত সাহস কি আমাদের আছে?’
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রতন মিয়া বলেন, ‘মাটি কাটার বিষয়টি আমাকে কেউ অবহিত করেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে মাটিকাটা বন্ধ হয়, সে জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর মাটি লুটপাটের বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আমি একসময় মাটির ব্যবসা করতাম। এখন করি না। যে বা যারা আমার কথা বলছে, এটি সঠিক না। তবে মাটি লুটপাট হচ্ছে, এটা সঠিক। গভীর রাতে মাটি কেটে নৌকা দিয়ে নিয়ে যায়।’
শ্রীপুর ইউএনও সজীব আহমেদ বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী তীরের মাটি লুটপাটের বিষয়টি আমাকে কেউ অবহিত করেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।