গাইবান্ধা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়লেও আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা নেই। ফলে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীরা একসঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগী ও স্বজনদের ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীদের সার্বক্ষণিক মশারি টানিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়। যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড় দিতে না পারে। যদি আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড় দেয়, আর সেই মশা সুস্থ কোনো মানুষকে কামড় দেয়, তবে ডেঙ্গু ভাইরাস ওই মানুষকেও সংক্রমিত করে।
সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি ৫০ শয্যার। নতুন ভবন চালু না হওয়ায় ওই ভবনেই চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীসহ ৪৫০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে ২৫ জন। ফলে শয্যার বাইরে রোগীদের বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
আরও জানা গেছে, হাসপাতালে সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সার্জারি, ইএনটি (নাক, কান, গলা), অর্থো-সার্জারি, অ্যানেসথেটিস্ট, চক্ষু, মেডিসিন, চর্ম ও যৌন রোগের কোনো চিকিৎসক নেই। সহকারী সার্জন ২৮ জনের জায়গায় রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। জরুরি বিভাগে মেডিকেল অফিসার আটজন থাকার কথা থাকলে রয়েছেন মাত্র একজন। এ ছাড়া অন্যান্য পদেও জনবলসংকট রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের গাদাগাদি। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছে ডেঙ্গু রোগীরা। তারা মশারিও টানাচ্ছে না। হাসপাতালে অবাধে রোগীর স্বজনেরা অবস্থান করছেন। চারদিকে ময়লা পানি জমে আছে। ওয়ার্ডে নার্সরা রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সদর উপজেলার ধানগড়া এলাকার বাসিন্দা আগমল হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু এখানে বেড (শয্যা) খালি না থাকায় বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। খুব কষ্টে আছি।’
হাসপাতালের নার্সিং ইনচার্জ বীণাপাণি গোলজার বলেন, ‘৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে ভর্তি পাঁচ শতাধিক। তাহলে কীভাবে শৃঙ্খলা থাকবে?’
শয্যাসংকটের কারণে রোগীরা বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। টানানোর সুযোগ না থাকায় শয্যা ছাড়া রোগীদের মশারি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. শহিদুল্লাহর কক্ষে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সাক্ষাৎকার দিতে পারব না। ওপর থেকে নিষেধ আছে। আপনি এখন আসতে পারেন।’ দ্বিতীয় প্রশ্ন করার পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রুম থেকে চলে যান।
জেলা সিভিল সার্জন মো. রফিকুজ্জামান বলেন, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। ডেঙ্গু রোধে সচেতন হতে হবে ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।