হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ: দুই বছরেও চালু হয়নি পানি শোধনাগার

মো. জাহিদুল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

সুন্দরগঞ্জে ২০০ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগারটি দুই বছরেও চালু হয়নি। এতে শুধু বিশুদ্ধ পানি থেকে বাসিন্দারা বঞ্চিত হচ্ছেন তা নয়, স্থাপনাটির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জানা যায়, ২০২৪ সালের জুন মাসে ঘণ্টায় ২০০ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পৌরসভার পানি শোধনাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। জুলাই মাসে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে এটি হস্তান্তর করে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। ১ হাজার ২০০ পরিবার এর সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। সেখানে উদ্বোধনকালে পানির সংযোগ দেওয়া হয় মাত্র ৬০০ পরিবারকে। মাস দুয়েক পরে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।

এর পর থেকে অদ্যাবধি আর চালু হয়নি শোধনাগারটি। প্রকল্পটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৩ টাকা। এটি ২০২২ সালের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে করা হয়েছে।

পৌরবাসীর অভিযোগ, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে শোধনাগারটি নির্মাণ করা হলেও এটি কার্যকরভাবে কাজে না আসায় তাঁদের পানির সংকট রয়েই গেছে। বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।

পৌরবাসীর প্রশ্ন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত শোধনাগারটি কেন পরিচালিত হচ্ছে না এবং এর পেছনে কী ধরনের কারিগরি, ব্যবস্থাপনাগত বা অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. খোকন রানা বলেন, ‘যথাসময়ে নির্মাণকাজ শেষ করে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছি। তারা মাস তিনেক সার্ভিসও দিয়েছে। এরপর পৌরসভার রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিভিন্ন স্থানে পানি সরবরাহের লাইন নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ ছিল।’

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ফেটে যাওয়া পাইপগুলো মেরামত করা হয়েছে। এটি রান করার মতো এক্সপার্ট বা জনবল—কোনোটিই নেই আমাদের পৌরসভায়। সে কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। ফিডব্যাক পাইনি এখনো। যোগাযোগ অব্যাহত আছে। তা ছাড়া, ঠিকাদার মেরামত করার পরে এখনো বুঝিয়ে দেয়নি।’