হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

চার বছর পর জানা গেল, মৃত নয় জীবিত ছিল নবজাতক

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 

নবজাতককে ফিরে পেতে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

যে সন্তানকে জন্মের পর মৃত বলে ফেলে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল, চার বছর পর সেই সন্তানই জীবিত—এমন তথ্য সামনে আসতেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে। অভিযোগ, গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে জন্মের পরপরই নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে দালালচক্রের মাধ্যমে শিশুটিকে অন্যত্র দিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং শিশুটিকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী আকলিমা ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৃতীয় সন্তান জন্ম দিতে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে যান।

পরিবারের অভিযোগ, সন্তান জন্মের পর নবজাতককে মায়ের কাছে দেওয়া হয়নি। একটি দালালচক্রের মাধ্যমে নবজাতককে গোপনে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। পরে আকলিমাকে জানানো হয়, তিনি মৃত সন্তান জন্ম দিয়েছেন এবং তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি—মমতা, রশিদা ও রহিমা নামের তিনজন নারী এ কাজে সম্পৃক্ত।

স্থানীয়রা বলছেন, শিশুটি যদি সত্যিই জন্মের কয়েক দিন পর মারা গিয়ে থাকে, তাহলে চার বছর পর তার জীবিত থাকার তথ্য কীভাবে সামনে এল?

ঘটনার প্রতিবাদে আজ শনিবার ফুলছড়ির মদনেরপাড়া বাজারে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে তাঁরা বলেন, একজন মায়ের কাছ থেকে নবজাতককে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও অমানবিক। চার বছর ধরে একজন মা সন্তানের প্রকৃত পরিণতি জানেন না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

মানববন্ধনে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং শিশুটির বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করার দাবি জানানো হয়।

এদিকে মাস দেড়েক আগে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালুর উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস হয়। সেখানে মমতা বেগমসহ অন্য অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তাঁরা ওই শিশুকে অন্যত্র দিয়ে দেওয়ার তথ্য দেন।

চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালু বলেন, ‘আমি যেটুকু জানতে পেরেছি, এর আগে আকলিমার তিনটি কন্যাসন্তান ছিল। চতুর্থ সন্তানটিও কন্যা হওয়ায় নিজেই রশিদা বেগমের মাধ্যমে নবজাতককে দত্তক দেন আকলিমা। তবে এখন তিনি তাঁর সন্তানকে ফেরত চাচ্ছেন। চেষ্টা করেও মীমাংসায় পৌঁছাতে না পেরে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছি।’