জাল জন্মসনদ তৈরি করে চার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগ এবং আদালতের আদেশের নথিতে কাটাকাটি ও নথি গায়েবের ঘটনায় গাইবান্ধায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও মো. হকিকুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলায় চার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের নথি গায়েব এবং আদেশের অংশবিশেষ কাটাকাটি করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোবিন্দগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম গালিব হাসানকে। তদন্ত শেষে গত ১৯ আগস্ট তিনি শিশু আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল, তাঁর মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিল এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ বলেও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারীকে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলাটি করতে বলা হয়েছে।