গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মামলার আসামি জাসাস নেতা জমির উদ্দীন সরকার জনিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযুক্ত জনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আজ রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন সবরিতলা এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় শ্রাবণী আক্তারের বাবা ছামছুল ইসলাম, মা মোর্শেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, নৃশংস এ ঘটনায় মামলা হলেও আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না। নিরুপায় হয়ে আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তাঁরা সড়কে অবস্থান নেন।
অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে জরুরি কাজে বের হওয়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পরে পলাশবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েলসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আসামিকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার আশ্বাস দেওয়া হলে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
এর আগে ৯ আগস্ট গভীর রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার গৃধারীপুর এলাকায় শ্রাবণীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় জনি তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে ধারালো বটি দিয়ে শ্রাবণীর মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রাবণীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী নিজেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। শ্রাবণীর পরিবারের অভিযোগ, সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে বলে তাঁকে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে বাবার বাড়িতে রয়েছেন শ্রাবণী। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলেও জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের আমছার আলীর ছেলে জমির উদ্দীন সরকার জনির সঙ্গে শ্রাবণীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
শ্রাবণীর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন জনি। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে একাধিকবার নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি। একাধিকবার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও দিয়েছি। কিন্তু নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ওই রাতে আমার মেয়েকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে তাঁকে ধারালো বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের শাস্তি চাই।’
এ ঘটনায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জামাতা জমির উদ্দীন সরকার জনিকে একমাত্র আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় মামলা করেন শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম।
পলাশবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল বলেন, ‘সকাল ১১টা থেকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযুক্ত জনিকে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাসাসের পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক জমির উদ্দীন সরকার জনিকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
১৬ আগস্ট বিকেলে গাইবান্ধা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক বজলুর করিম রপু ও সদস্যসচিব খান মো. কাওসার ওয়াহিদ সুদান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।