গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৭১তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কাটার মোড় ও বাগদা ফার্ম এলাকায় এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল সাঁওতাল বিদ্রোহের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিল শেষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর আগে সাহেবগঞ্জ স্মৃতি বিদ্যানিকেতনে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরেও সাঁওতালরা অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়িঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ-লুটতরাজ ও তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার আজও হয়নি। হামলায় তিন সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিসহ তাঁদের বাপ-দাদার সম্পত্তি ফেরত দেওয়ারও দাবি জানান।
সুফল হেমরমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আমিনুল ফরিদ, আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন, সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম, যোজ্ঞেশ্বর বর্মণ, বার্নাবাস টুডু, গনেশ মুরমু, জাফরুল ইসলাম প্রধান, আজমল হোসেন, আতাউর রহমান, চামিল হেমরম, রুমিলা কিসকু, মাহালয়া প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৮৫৫ সালে ভারতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়। সেই বিদ্রোহে নিহত হন সাঁওতাল নেতা সিধু-কানু-চাদ-ভৈরবসহ আরও অনেকে। তখন থেকে সাঁওতালরা প্রতিবছর ৩০ জুন সাঁওতাল ‘হুল’ বা বিদ্রোহ দিবস পালন করে আসছে।