হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে বালিশচাপায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ জাসাস নেতার বিরুদ্ধে, বহিষ্কার

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 

অভিযুক্ত জাসাস নেতা জমির উদ্দীন সরকার জনি। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যৌতুকের টাকা না পেয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জমির উদ্দীন সরকার জনিকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা করেছেন তাঁরই শ্বশুর ছামছুল ইসলাম। ঘটনার পর ওই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে গাইবান্ধা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক বজলুর করিম রপু ও সদস্যসচিব খান মো. কাওসার ওয়াহিদ সুদান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাসাসের পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জমির উদ্দীন সরকার জনিকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের আমছার আলীর ছেলে জমির উদ্দীন সরকার জনির সঙ্গে শ্রাবণী আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সম্প্রতি যৌতুকের দাবিতে শ্রাবণীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন জনি। সর্বশেষ ৯ আগস্ট গভীর রাতে দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রী শ্রাবণীকে মারধর করেন তিনি। মারধরের একপর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে ধারালো বঁটি দিয়ে মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন জনি। পরে গুরুতর আহত শ্রাবণীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শ্রাবণীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, ঘটনার দিন গভীর রাতে শ্রাবণীকে মুমূর্ষু অবস্থায় রমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন অভিযুক্ত জনি। সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন মর্মে ভর্তি করা হয়। ঘটনা প্রকাশ পাবে বলে প্রথমে পলাশবাড়ী হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।

নির্যাতনের শিকার শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে একাধিকবার নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু নির্যাতন থামেনি। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।’

ছামছুল ইসলামের অভিযোগ, সেদিন রাতে তাঁর মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যায় ব্যর্থ হয়ে এ রকম অমানুষের মতো নির্যাতন করা হয়েছে। এর যথাযথ শাস্তিমূলক বিচার চান তিনি।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান বলেন, ‘যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পলাশবাড়ী থানায় জনিকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা করেছেন শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম। আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’