গাইবান্ধা যক্ষ্মা হাসপাতালে (বক্ষব্যাধি ক্লিনিক) দেড় যুগ ধরে প্রায় অর্ধেক পদই শূন্য। বর্তমানে হাসপাতালটিতে কোনো চিকিৎসক নেই। এ পরিস্থিতিতে দুই মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে মোট কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা ১৭ জন। বর্তমানে আছেন ৯ জন। এর মধ্যে ২০২২ সাল থেকে হাসপাতালে কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। চলতি বছরের ১৯ জুলাই থেকে জুনিয়র কনসালট্যান্টের পদও শূন্য। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা নিতে আসেন ২০ থেকে ৩০ জন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুবার চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসার জন্য আসা শহরের পূর্বপাড়ার আমিনা বেগম (৫৫) বলেন, ‘এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসছিলাম। জানতে পারলাম এখানে চিকিৎসক নেই। পরীক্ষা করাতে কফ দিয়েছি। এখন যদি আমার যক্ষ্মা রোগ হয়। কাকে দেখাব? এখানে তো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।’
সরেজমিনে দেখা যায়, কর্মচারীদের অনেকে দাপ্তরিক কাজ করছেন। কেউ আবার গল্প করে সময় পার করছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা আসছেন, কিন্তু চিকিৎসক নেই। সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে অনেক রোগীকে।
গাইবান্ধা সদরের দক্ষিণ ধানড়া গ্রামের বাকী মিয়া বলেন, ‘রোগ হলেই আসতাম। ওষুধ নিয়ে খাইলেই রোগ সারত। এখন আসি আর ঘুরি যাই। চিকিৎসকও নেই, ওষুধও নেই।’
গাইবান্ধা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আফরোজা বেগম বলেন, পুরোনো সেই জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে চিকিৎসাসেবা। জনসংখ্যা বাড়ছে। মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে অন্তত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার, কয়েকজন নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্যান্য জনবল থাকা খুবই জরুরি।
সিভিল সার্জন রফিকুজ্জামান বলেন, একজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনিক কিছু কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কিছু জানায়নি।