হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

বিধবার জমি দখলের অভিযোগ স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 

অভিযুক্ত মো. মোশারফ হোসেন ওরফে তালুকদার মিলন। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক বিধবার জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে মো. মোশারফ হোসেন (৪০) নামের এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম।

আজ সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্। তিনি বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযুক্ত মো. মোশারফ হোসেন ওরফে তালুকদার মিলন উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামের মো. খলিল তালুকদারের ছেলে। তিনি ছয়ঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

ভুক্তভোগী ওই বিধবা একই গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছয়ঘরিয়া মৌজার একাধিক দাগে সাড়ে ৬৩ শতাংশ জমি রয়েছে যা ওই বিধবার স্বামী মজিবর রহমান তাঁর পৈতৃকসূত্রে পেয়েছিলেন। পাশাপাশি ভোগদখলও করছিলেন। বছর তিনেক আগে ভুক্তভোগী মমতাজ বেগমের স্বামী মারা যান। এরপর থেকে স্কুলশিক্ষক মিলন তাঁর লোকজন নিয়ে ওই জমি নিজেদের দখলে নেন। ওই নারী তাঁকে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করলেও জমি ছাড়েননি। উপরন্তু নানা হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিস বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৪ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মমতাজ বেগম ওই জমিতে যান এবং দখল ছেড়ে দিতে বলেন। এতে শিক্ষক মিলনসহ অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে গালাগাল করেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাঁকে রক্ষা করেন। পরে শিক্ষক মিলন বিধবা ও তাঁর স্বজনদের হুমকি দিয়ে বলেন—জমির দখল নিতে গেলে হত্যা করে লাশ জমিতেই পুঁতে রাখা হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দিয়ে আর্থিক ক্ষতিসহ হয়রানি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতাজ বেগম।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, ‘জমির মালিকানা ও ভোগদখলের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য অনেক চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. মোশারফ হোসেন ওরফে তালুকদার মিলনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি অভিযোগের বিষয়গুলো শোনার পর ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরে তিনি আর ফোন ধরেননি।